শ্রীমঙ্গলে স্কুলের মিড-ডে মিলের বনরুটিতে সুঁই ও ব্লেড, অভিভাবকদের উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু করা ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির খাবার নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক বনরুটির ভেতর ধারালো ব্লেড ও সুঁই পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচির খাবার রুটিন অনুযায়ী সরবরাহ না করা, ভাঙা ডিম ও কাঁচা কলা দেওয়া এবং নির্দিষ্ট দিনের আইটেম না দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচিটি শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরি ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতি শুক্ল বৈদ্য স্কুল থেকে পাওয়া বনরুটি বাসায় নিয়ে যায়। প্রীতির বাবা কার্তিক বৈদ্য জানান, কয়েকদিন আগে পাশের আরেকটি স্কুলে বনরুটিতে ব্লেড পাওয়ার খবর শুনে তিনি সন্তানদের সতর্ক করেছিলেন। মেয়ে বাড়ি ফিরলে তিনি নিজেই বনরুটির প্যাকেটটি খোলেন এবং রুটির মাঝখানে গেঁথে থাকা একটি পুরোনো ও একটি নতুন সুঁই দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বৈশিষ্ট গোয়ালা ও প্রতিবেশীদের জানানো হয়। তারা ওই বনরুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেন।
এর মাত্র দুইদিন আগে, গত ৭ই সেপ্টেম্বর একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন তার স্কুল থেকে দেওয়া বনরুটির ভেতর ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ তোলে। ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধন বুনার্জি জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স’ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি আহমেদ বাবু দাবি করেন, কেজুরি ছড়া বিদ্যালয়ের সুঁই পাওয়ার বিষয়ে তাদের কেউ কিছু জানায়নি। আর টিপড়াছড়া বিদ্যালয়ে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগটি তারা তদন্ত করে কোনো সত্যতা পাননি। মেশিনে তৈরি হওয়ায় বনরুটির ভেতরে এ ধরনের কিছু থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে এবং লিখিতভাবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হবে। টিপড়াছড়া বিদ্যালয়ের ব্লেড পাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



























