ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ পর্যালোচনা শুরু এশিয়ান গেমস কাবাডিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত সরকারি দরপত্রে ২০ বছরের ‘সুযোগবঞ্চিত’দের জন্য নতুন সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাওয়ার হ্যামলেটসে স্কুল পোশাকের অনুদান বৃদ্ধি, সুবিধা পাবে আরও বেশি পরিবার লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চার দিন ধরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমলো তেলের দাম বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে কেন হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের বন্ধু খেঁকশিয়াল?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ছোটবেলায় শিয়ালপন্ডিত কিংবা শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাকের গল্প শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। লোকজ গল্প, ছড়া আর কুসংস্কারে জড়িয়ে থাকা এই প্রাণীটি এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশে খেঁকশিয়াল বা বেঙ্গল ফক্স (বৈজ্ঞানিক নাম: ভালপিস বেঙ্গালেনসিস) এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু এটি আমাদের দেশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। কেন হারিয়ে যাচ্ছে খেঁকশিয়াল? বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে খেঁকশিয়ালের অবস্থা অনেক বেশি উদ্বেগজনক। প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউসিএন)-এর গ্লোবাল রেড লিস্ট অর্থাৎ যে তালিকা দিয়ে প্রাণীর বিপন্ন অবস্থার সূচক বোঝানো হয়, সে তালিকায় বেঙ্গল ফক্স বা খেঁকশিয়ালের সংখ্যা ২০০-এর নিচে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকৃতিতে খেঁকশিয়ালের ভূমিকা অপরিসীম। মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, ইঁদুর ও ছোট পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ খেঁকশিয়ালকে 'কৃষকের বন্ধু' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এদের সংখ্যা কমে যাওয়া পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

অনেকেই খেঁকশিয়াল ও পাতিশিয়ালকে (গোল্ডেন জ্যাকাল) একই মনে করেন, কিন্তু প্রাণিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এরা ভিন্ন। খেঁকশিয়াল আকারে ছোট, সরু মুখ ও ঝুঁটিওয়ালা লেজের অধিকারী, যারা সাধারণত গুহাবাসী বা মাটির নিচে টানেল তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে, পাতিশিয়াল আকারে বড় এবং এদের আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসেও ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভুলবশত খেঁকশিয়ালকে ক্ষতিকর মনে করে, কিন্তু গবেষকদের মতে, হাঁস-মুরগি খাওয়ার অভিযোগ মূলত পাতিশিয়ালের ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। খেঁকশিয়াল মূলত ইঁদুর, কীটপতঙ্গ ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে বেঁচে থাকে।

আইইউসিএন-এর ২০১৫ সালের রেড লিস্ট অনুযায়ী, খেঁকশিয়াল বাংলাদেশে 'ভালনারেবল' বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মৌলভীবাজার সীমান্ত এলাকায় এদের সীমিত অস্তিত্ব রয়েছে। আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, মানুষের হাতে হত্যা এবং খাদ্যের অভাবই এদের সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ। ড. আজিজের মতে, এরা মূলত পরিত্যক্ত জায়গা, পুকুরপাড় বা নদীর চরের মতো নিরিবিলি এলাকা পছন্দ করে, কিন্তু মানুষের ক্রমবর্ধমান চাপের ফলে এদের নিরাপদ আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ঠিক কতটি খেঁকশিয়াল অবশিষ্ট আছে, তার কোনো নির্ভরযোগ্য জরিপ নেই। বন বিভাগ ও আইইউসিএন ২০২৫ সালে জাতীয় প্রাণিকুলের তৃতীয় রেড লিস্ট হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে, যেখানে খেঁকশিয়ালের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। আইন অনুযায়ী খেঁকশিয়াল সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হওয়ায় এদের হত্যা বা মাংস বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে জনসচেতনতা ও উপযুক্ত আবাসস্থল রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে কেন হারিয়ে যাচ্ছে কৃষকের বন্ধু খেঁকশিয়াল?

আপডেট সময় : ১০:২১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছোটবেলায় শিয়ালপন্ডিত কিংবা শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাকের গল্প শোনেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। লোকজ গল্প, ছড়া আর কুসংস্কারে জড়িয়ে থাকা এই প্রাণীটি এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বাংলাদেশে খেঁকশিয়াল বা বেঙ্গল ফক্স (বৈজ্ঞানিক নাম: ভালপিস বেঙ্গালেনসিস) এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু এটি আমাদের দেশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। কেন হারিয়ে যাচ্ছে খেঁকশিয়াল? বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে খেঁকশিয়ালের অবস্থা অনেক বেশি উদ্বেগজনক। প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউসিএন)-এর গ্লোবাল রেড লিস্ট অর্থাৎ যে তালিকা দিয়ে প্রাণীর বিপন্ন অবস্থার সূচক বোঝানো হয়, সে তালিকায় বেঙ্গল ফক্স বা খেঁকশিয়ালের সংখ্যা ২০০-এর নিচে নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকৃতিতে খেঁকশিয়ালের ভূমিকা অপরিসীম। মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, ইঁদুর ও ছোট পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ খেঁকশিয়ালকে 'কৃষকের বন্ধু' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এদের সংখ্যা কমে যাওয়া পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

অনেকেই খেঁকশিয়াল ও পাতিশিয়ালকে (গোল্ডেন জ্যাকাল) একই মনে করেন, কিন্তু প্রাণিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এরা ভিন্ন। খেঁকশিয়াল আকারে ছোট, সরু মুখ ও ঝুঁটিওয়ালা লেজের অধিকারী, যারা সাধারণত গুহাবাসী বা মাটির নিচে টানেল তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে, পাতিশিয়াল আকারে বড় এবং এদের আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসেও ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভুলবশত খেঁকশিয়ালকে ক্ষতিকর মনে করে, কিন্তু গবেষকদের মতে, হাঁস-মুরগি খাওয়ার অভিযোগ মূলত পাতিশিয়ালের ক্ষেত্রেই বেশি প্রযোজ্য। খেঁকশিয়াল মূলত ইঁদুর, কীটপতঙ্গ ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে বেঁচে থাকে।

আইইউসিএন-এর ২০১৫ সালের রেড লিস্ট অনুযায়ী, খেঁকশিয়াল বাংলাদেশে 'ভালনারেবল' বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। বর্তমানে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মৌলভীবাজার সীমান্ত এলাকায় এদের সীমিত অস্তিত্ব রয়েছে। আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, মানুষের হাতে হত্যা এবং খাদ্যের অভাবই এদের সংখ্যা হ্রাসের মূল কারণ। ড. আজিজের মতে, এরা মূলত পরিত্যক্ত জায়গা, পুকুরপাড় বা নদীর চরের মতো নিরিবিলি এলাকা পছন্দ করে, কিন্তু মানুষের ক্রমবর্ধমান চাপের ফলে এদের নিরাপদ আবাসস্থল হারিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ঠিক কতটি খেঁকশিয়াল অবশিষ্ট আছে, তার কোনো নির্ভরযোগ্য জরিপ নেই। বন বিভাগ ও আইইউসিএন ২০২৫ সালে জাতীয় প্রাণিকুলের তৃতীয় রেড লিস্ট হালনাগাদের কাজ শুরু করেছে, যেখানে খেঁকশিয়ালের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। আইন অনুযায়ী খেঁকশিয়াল সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হওয়ায় এদের হত্যা বা মাংস বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে হলে জনসচেতনতা ও উপযুক্ত আবাসস্থল রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin