ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আবুল মনসুর আহমদের চিন্তাধারা নিয়ে নতুন বইয়ের প্রকাশনা জরিমানা-নিষেধাজ্ঞার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের স্মরণে অটল এনএফএল খেলোয়াড় টাইব্রেকারে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল স্পেন মরিয়মের মৃত্যু: রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও লুটপাট: গ্রেপ্তার ৫ মেসির সঙ্গে আলিঙ্গনের সেই মুহূর্তে কী বলেছিলেন লামিন ইয়ামাল আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করলেন চিত্রনায়িকা সুবাহ শরণখোলায় জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের বিশাল কোরাল মাছ মুম্বাইয়ে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে জেল ভরো আন্দোলনের ডাক সিজেপির

৩ সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন ৯ বছর, গাজীপুর সাফারি পার্কে বন্দি দুই লেপার্ড

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন শেডে সাময়িক বন্দিত্বে কেটে গেছে দুটি লেপার্ডের জীবনের প্রায় ৯ বছর। ২০১৭ সালে মাত্র দেড় মাস বয়সে উদ্ধারের পর যেখানে তাদের মাত্র তিন সপ্তাহ থাকার কথা ছিল, সেখানে দীর্ঘ ৯ বছরেও তাদের জন্য কোনো উপযোগী আবাস তৈরি করা হয়নি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি সিংহশাবক ও দুটি লেপার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে সে সময় দুজনকে আটক করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া শাবকগুলোকে পরে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিংহশাবক দুটিকে সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হলেও লেপার্ড দুটিকে আর সেখান থেকে সরানো হয়নি। উদ্ধারের সময় একটি লেপার্ডের ওজন ছিল ২ কেজি এবং অন্যটির ১ কেজি ৬০০ গ্রাম। লেজসহ দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ২৬ ও ২২ ইঞ্চি। এখন তাদের বয়স প্রায় ৯ বছর।

বর্তমানে লোহার গ্রিল ঘেরা ছোট একটি ঘরেই কাটছে এই লেপার্ড দুটির জীবন। সেখানে নেই গাছে ওঠার সুযোগ, নেই ছুটে বেড়ানোর জায়গা কিংবা শিকারের স্বাভাবিক পরিবেশ। দর্শনার্থীরাও তাদের দেখতে পান না। খাবার দেওয়ার সময় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং পরে দরজা খুলে দিলে দুই কক্ষে ঘুরে ঘুরে তারা খাবার খায়। খাঁচার কাছে মানুষ গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রিলের ওপর লাফিয়ে ওঠে। চলাফেরা বা লাফানোর জন্য কক্ষের জায়গা অত্যন্ত অপ্রতুল।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী–বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, নতুন কোনো প্রাণী আনার পর রোগজীবাণু ছড়ানো ঠেকাতে সাধারণত চার সপ্তাহ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় এবং এরপর তাদের উপযোগী জায়গায় স্থানান্তর করা উচিত। দীর্ঘদিন এভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাফারি পার্কে প্রাণীদের জন্য বড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যবস্থা থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি দ্রুত লেপার্ড দুটির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন।

২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পার্কটি পরিদর্শন করে লেপার্ড দুটির জন্য আবাসন তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর আগেও উচ্চপর্যায় থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দর্শনার্থী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বাঘ ও সিংহ দেখার সুযোগ থাকলেও দর্শনার্থীরা লেপার্ড দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হলে তারা এই প্রাণীটিও দেখতে পেতেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কারণেই লেপার্ড দুটিকে কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

৩ সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন ৯ বছর, গাজীপুর সাফারি পার্কে বন্দি দুই লেপার্ড

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন শেডে সাময়িক বন্দিত্বে কেটে গেছে দুটি লেপার্ডের জীবনের প্রায় ৯ বছর। ২০১৭ সালে মাত্র দেড় মাস বয়সে উদ্ধারের পর যেখানে তাদের মাত্র তিন সপ্তাহ থাকার কথা ছিল, সেখানে দীর্ঘ ৯ বছরেও তাদের জন্য কোনো উপযোগী আবাস তৈরি করা হয়নি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বর যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া এলাকায় একটি গাড়ি থেকে দুটি সিংহশাবক ও দুটি লেপার্ড উদ্ধার করে পুলিশ। বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে সে সময় দুজনকে আটক করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া শাবকগুলোকে পরে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের তিন সপ্তাহের জন্য কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিংহশাবক দুটিকে সাফারি পার্কে স্থানান্তর করা হলেও লেপার্ড দুটিকে আর সেখান থেকে সরানো হয়নি। উদ্ধারের সময় একটি লেপার্ডের ওজন ছিল ২ কেজি এবং অন্যটির ১ কেজি ৬০০ গ্রাম। লেজসহ দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ২৬ ও ২২ ইঞ্চি। এখন তাদের বয়স প্রায় ৯ বছর।

বর্তমানে লোহার গ্রিল ঘেরা ছোট একটি ঘরেই কাটছে এই লেপার্ড দুটির জীবন। সেখানে নেই গাছে ওঠার সুযোগ, নেই ছুটে বেড়ানোর জায়গা কিংবা শিকারের স্বাভাবিক পরিবেশ। দর্শনার্থীরাও তাদের দেখতে পান না। খাবার দেওয়ার সময় তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় এবং পরে দরজা খুলে দিলে দুই কক্ষে ঘুরে ঘুরে তারা খাবার খায়। খাঁচার কাছে মানুষ গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রিলের ওপর লাফিয়ে ওঠে। চলাফেরা বা লাফানোর জন্য কক্ষের জায়গা অত্যন্ত অপ্রতুল।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী–বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, নতুন কোনো প্রাণী আনার পর রোগজীবাণু ছড়ানো ঠেকাতে সাধারণত চার সপ্তাহ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় এবং এরপর তাদের উপযোগী জায়গায় স্থানান্তর করা উচিত। দীর্ঘদিন এভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সাফারি পার্কে প্রাণীদের জন্য বড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যবস্থা থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি দ্রুত লেপার্ড দুটির জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেন।

২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পার্কটি পরিদর্শন করে লেপার্ড দুটির জন্য আবাসন তৈরির পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর আগেও উচ্চপর্যায় থেকে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দর্শনার্থী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বাঘ ও সিংহ দেখার সুযোগ থাকলেও দর্শনার্থীরা লেপার্ড দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হলে তারা এই প্রাণীটিও দেখতে পেতেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক ও ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কারণেই লেপার্ড দুটিকে কোয়ারেন্টিন শেডে রাখা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল স্থানটি পরিদর্শন করেছে এবং এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo