ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলা: কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। গত ৭ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মেস্ত্রে শহরের একটি পার্কে নিজের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে অবস্থানকালে অভিনেত্রী বাঁধন হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে জানান, তিনি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেটকে বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরবে। প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যারা দেশে লুটপাট ও মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বর্তমান সরকার।
ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন জানান, ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে তিনি ইতালিতে যান। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। বাঁধন জানান, তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে, তার মোবাইল কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। এমনকি তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের বিদেশেও হেনস্তা করা হচ্ছে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, জাতিসংঘের কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তিনিও হামলার শিকার হয়েছিলেন। তিনি বিদেশে বাংলাদেশিদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, একজন জুলাইযোদ্ধার ওপর হামলা মানে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় পুলিশকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।
বাঁধন জানান, হামলার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে চিহ্নিত করা গেছে এবং তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তবেই দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, আমি দমে যাওয়ার মতো মানুষ নই, জুলাইতেও আমাকে দমানো যায়নি। আমি আমার ভাই কিংবা তার পরিবার যেভাবে হ্যারাস হয়েছে তার জন্য আমি আপসেট। এটা ন্যক্কারজনক। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়বো। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে জীবনের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন।





























