বন্ড সুবিধায় সুতা আমদানি বাতিল, বস্ত্র ও পোশাক খাতে মতভেদ
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

দেশীয় বস্ত্রকলগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে বন্ড সুবিধায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন বা তুলা সুতা আমদানির সুবিধা বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার জারি করা এই আদেশের ফলে এখন থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানি করতে হবে। তবে শর্ত রয়েছে যে, আমদানিকৃত সুতা দিয়ে প্রস্তুতকৃত পোশাক রপ্তানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করা হবে।
এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্ডেড ওয়্যারহাউসের লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারকদের এই সুতা আমদানির সময় বিজিএমইএ, বিকেএমইএ বা বিটিএমএ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থ নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে প্রদান করতে হবে। পরবর্তী সময়ে কাঁচামাল দিয়ে প্রস্তুত পোশাক রপ্তানির পর প্রত্যয়নপত্র দাখিল করলে ওই ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত হবে।
এই সিদ্ধান্ত আসার পর বস্ত্রকল মালিক ও পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে তীব্র মতভেদের সৃষ্টি হয়েছে। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এর ফলে স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে এবং আংশিক বন্ধ থাকা বস্ত্রকলগুলো পুনরায় সচল হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া দেশীয় সুতা ব্যবহারে মূল্য সংযোজন বা ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়বে এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে সুতা বিক্রির সুযোগ কমে আসবে। বিটিএমএর তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১ হাজার ৮ শতাধিক টেক্সটাইল মিল রয়েছে, যার মধ্যে ৫২৭টি স্পিনিং মিল। এই খাতে মোট বিনিয়োগ প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার এবং স্থানীয় বস্ত্রকলগুলো নিট পোশাকশিল্পের ৮০ শতাংশ ও ওভেন পোশাকের প্রায় ৪০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করে।
অন্যদিকে, পোশাক রপ্তানিকারকরা এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যৌথভাবে বাণিজ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, গত ২০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় কমিটির সভায় ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি বন্ধের বিষয়ে কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, সভার কার্যবিবরণীতে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা নিয়ে সভায় কোনো আলোচনাই হয়নি। সভা শেষে কেবল বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে জানানোর কথা ছিল। সভার আলোচনাবহির্ভূত এ ধরনের বিষয় কার্যবিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করায় তারা বিস্মিত হয়েছেন।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ করের পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে হয়, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য বড় বোঝা। এছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত জটিল। তিনি আরও বলেন, বন্ডের অপব্যবহার রোধে কাস্টমস কর্মকর্তাদের নজরদারি বাড়ানোই প্রকৃত সমাধান, বিধিনিষেধ আরোপ করা নয়। পোশাক শিল্পের নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভুল বার্তা যাবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। এছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশীয় বস্ত্র খাতকে চাঙা করতে সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে, যাতে সরকারের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী বর্তমানে বিদেশে আছেন এবং দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।




























