ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় লাথিতে চাচা নিহত, গ্রেপ্তার ১ বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আমিরাত রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ব পালনকালে সিআইডি কর্মকর্তার মৃত্যু জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: হুমায়ুন কবীর চরফ্যাশনে গরু ব্যবসায়ী আবুল বাশার হত্যায় স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার অসুস্থ যুবদল নেতা অলির হার্ট সার্জারির দায়িত্ব নিলেন সজিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, পদত্যাগের দাবি নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল সোহেলী হত্যা চেষ্টা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক এমপি ছানোয়ার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা বিতরণে নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ

বাংলাদেশে পাঠানো নারীর স্বামীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ গৌহাটি হাইকোর্টের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



এক ভারতীয় নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশি সাজিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার স্বামীকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ রুপি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। মুমতাজ বেগম নামের ওই নারীকে বিদেশি ঘোষণা করে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদালত আসাম সরকারকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মুমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হক স্ত্রীর খোঁজে আদালতে একটি হেবিয়াস করপাস আবেদন করেছিলেন। গত ৩রা সেপ্টেম্বর বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের দ্বৈত বেঞ্চ এই ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মুমতাজ বেগমকে ভারত থেকে বহিষ্কারের আগে তার স্বামী বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে বিষয়টি জানানো হয়নি। কোনো তথ্য না দিয়ে এভাবে বহিষ্কার করার কারণে আদালত আসাম সরকারকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মুজাম্মেল হককে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া মুজাম্মেল হক চাইলে দেওয়ানি আদালতে আরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে মুমতাজ বেগমের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে আসামের স্বরাষ্ট্র বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মুমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মুমতাজ। তার দাবি ছিল, ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকায় তার দাদার নাম রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও তার কাছে আছে। চলতি বছরের এপ্রিলে গৌহাটি হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠায়। কিন্তু ৩০শে মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর মুমতাজকে আটক করে মাতিয়া ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, ১৪ই জুন তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালত এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি বড় ধরনের পদ্ধতিগত ত্রুটি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে পাঠানো নারীর স্বামীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ গৌহাটি হাইকোর্টের

আপডেট সময় : ০১:০১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক ভারতীয় নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশি সাজিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার স্বামীকে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ রুপি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। মুমতাজ বেগম নামের ওই নারীকে বিদেশি ঘোষণা করে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে আপিল চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ আদালত আসাম সরকারকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মুমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হক স্ত্রীর খোঁজে আদালতে একটি হেবিয়াস করপাস আবেদন করেছিলেন। গত ৩রা সেপ্টেম্বর বিচারপতি কল্যাণ রায় সুরানা ও বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্ডের দ্বৈত বেঞ্চ এই ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মুমতাজ বেগমকে ভারত থেকে বহিষ্কারের আগে তার স্বামী বা পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে বিষয়টি জানানো হয়নি। কোনো তথ্য না দিয়ে এভাবে বহিষ্কার করার কারণে আদালত আসাম সরকারকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মুজাম্মেল হককে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া মুজাম্মেল হক চাইলে দেওয়ানি আদালতে আরও বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন বলেও আদালত উল্লেখ করেন।

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে মুমতাজ বেগমের বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্ত করতে আসামের স্বরাষ্ট্র বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালে নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মুমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মুমতাজ। তার দাবি ছিল, ১৯৭১ সালের আগের ভোটার তালিকায় তার দাদার নাম রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও তার কাছে আছে। চলতি বছরের এপ্রিলে গৌহাটি হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ বাতিল করে মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠায়। কিন্তু ৩০শে মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার পর মুমতাজকে আটক করে মাতিয়া ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, ১৪ই জুন তাকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আদালত এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি বড় ধরনের পদ্ধতিগত ত্রুটি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin