ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালো কিংবা মন্দ, সরকারের পাঁচ বছরের ‘চুক্তি’ মেনেই ধৈর্য ধরার পরামর্শ প্রতিবাদ ও ‘আগের ১৪ বছর’ বিতর্ক: একটি সামাজিক বিশ্লেষণ রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় ওসির অবহেলার প্রমাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৮ লাখ টাকার সিরিঞ্জসহ নারী যাত্রী আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন আইনমন্ত্রী মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় বাংলাদেশ: আমরা কি প্রস্তুত নাকি কেবলই কল্পনা? নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্ত আম্বানির নিয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক অক্টোবরের মধ্যেই জিয়াউলের গুম মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের আশা

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা সচল রাখছে ইসরাইল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (06-09-2026) তারিখে ১২: ৪৫ (12:45) মিনিটে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ বা উচ্ছেদ করা ছাড়া এই সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান নেই। কাটজের এমন বক্তব্য গাজাবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত ওই সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনাটি একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছিল, তবে তা কখনোই বাতিল করা হয়নি। পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। অন্য কোনো দেশ গাজাবাসীদের গ্রহণে রাজি হলে সমুদ্র, আকাশ বা যেকোনো পথে তাদের বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এই প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হলো অন্য দেশগুলোর গাজাবাসীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার এই ধারণাটি নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আসে। বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে এলাকাটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তোলার সেই প্রস্তাব বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচিত হয়েছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও তখন গাজার জনগণের যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ তদারকির জন্য একটি বিশেষ দপ্তরও গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল তৃতীয় কোনো দেশে গাজাবাসীদের স্থানান্তর নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের গাজায় রেখে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের মতো আরব দেশগুলো একে স্বাগত জানালেও বর্তমানে ইসরাইল ও হামাসের অনড় অবস্থানের কারণে তা আটকে আছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া ইসরাইল সেনা সরাতে নারাজ, আর হামাসও সেনা প্রত্যাহারের আগে অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়।

এর মধ্যেই ইসরাইলের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গাজায় পুনরায় ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসনে’ উৎসাহিত করার পক্ষে কথা বলছেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। শান্তি আলোচনা অচল থাকার এই সময়ে কাটজের মন্তব্যকে কেবল নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা সচল রাখছে ইসরাইল

আপডেট সময় : ১২:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (06-09-2026) তারিখে ১২: ৪৫ (12:45) মিনিটে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। সম্প্রতি এক রাজনৈতিক সম্মেলনে তিনি মন্তব্য করেন, গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ বা উচ্ছেদ করা ছাড়া এই সংকটের কোনো বাস্তব সমাধান নেই। কাটজের এমন বক্তব্য গাজাবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত ওই সম্মেলনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, গাজার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনাটি একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছিল, তবে তা কখনোই বাতিল করা হয়নি। পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। অন্য কোনো দেশ গাজাবাসীদের গ্রহণে রাজি হলে সমুদ্র, আকাশ বা যেকোনো পথে তাদের বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে ইসরাইল প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। তবে এই প্রক্রিয়ার প্রধান বাধা হলো অন্য দেশগুলোর গাজাবাসীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ।

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার এই ধারণাটি নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর গাজাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আসে। বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে এলাকাটিকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’ হিসেবে গড়ে তোলার সেই প্রস্তাব বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচিত হয়েছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও তখন গাজার জনগণের যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘স্বেচ্ছা অভিবাসন’ তদারকির জন্য একটি বিশেষ দপ্তরও গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল তৃতীয় কোনো দেশে গাজাবাসীদের স্থানান্তর নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একটি শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনিদের গাজায় রেখে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কাতার, সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরের মতো আরব দেশগুলো একে স্বাগত জানালেও বর্তমানে ইসরাইল ও হামাসের অনড় অবস্থানের কারণে তা আটকে আছে। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া ইসরাইল সেনা সরাতে নারাজ, আর হামাসও সেনা প্রত্যাহারের আগে অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়।

এর মধ্যেই ইসরাইলের ডানপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গাজায় পুনরায় ইহুদি বসতি স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছা অভিবাসনে’ উৎসাহিত করার পক্ষে কথা বলছেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে। শান্তি আলোচনা অচল থাকার এই সময়ে কাটজের মন্তব্যকে কেবল নির্বাচনী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh