স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন আচরণবিধি: মিছিল ও এআই কনটেন্টে নিষেধাজ্ঞা
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর প্রচার-প্রচারণার পরিধি ও ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রণীত আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনে যেকোনো ধরনের মিছিল, পোস্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৬ সালের পুরোনো আচরণবিধি বাতিল করে এই নতুন ও সমন্বিত বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি এলাকায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া দেয়াল, ভবন, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সেতু, কালভার্ট, সরকারি স্থাপনা, মেট্রোরেলের পিলার ও ফ্লাইওভারের মতো স্থানে প্রচার সামগ্রী লাগানো নিষিদ্ধ। তফসিল ঘোষণা থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে শোভাযাত্রা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনি দিন ভোটার আনা-নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না এবং প্রচারে কোনো ধরনের আকাশযান বা হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও কোন মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে, তা আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। প্রচারে মিথ্যা, বিদ্বেষপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুৎসা রটানো যাবে না। এছাড়া নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। একই ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না। বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট আয়তনের সর্বোচ্চ একটি বিলবোর্ড প্রতি ওয়ার্ডে ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও তা যেন জনসাধারণের চলাচল বা পরিবেশের ক্ষতি না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং স্থানীয় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসকরা নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। প্রার্থীর পক্ষে কোনো সরকারি যানবাহন বা প্রচারযন্ত্র ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। ভোটার স্লিপে কেবল প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, প্রতীক ও সময় সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারবে, তবে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর তথ্য ব্যবহার করে ভোটার বিভ্রান্ত করা যাবে না। এছাড়া পেশিশক্তির ব্যবহার, ধর্মের অপব্যবহার এবং স্কুল-কলেজ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সভা আয়োজনে পুলিশের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কমিশন তদন্ত সাপেক্ষে মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থী এবং তাদের নির্বাচনি এজেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।


























