ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ

শান্তিচুক্তির পরও টাইগ্রেতে অস্থিরতা, নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২০২২ সালের নভেম্বরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে প্রিটোরিয়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ছিল এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। চুক্তির শর্তানুসারে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ, টাইগ্রের যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূত করা, রাজনৈতিক সংলাপ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয় এবং ৭ নম্বর ধারায় নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, মোতায়েন বা সামরিক শক্তি সংগঠিত করা নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রায় চার বছর পার হলেও প্রিটোরিয়া চুক্তির ফলাফল নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বড় আকারের যুদ্ধ থেমে আছে, তবে যে বিরোধগুলো যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল তার অনেকটাই এখনো মেটেনি। ২০২৪ সালের পর থেকে টিপিএলএফ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নিজেদের অবস্থান নতুন করে শক্ত করেছে এবং তাদের সামরিক প্রভাবও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এই সময়ে ইরিত্রিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে টিপিএলএফের যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুবাই ও জালামবেসায় বৈঠকের তথ্যও রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধী কয়েকটি গোষ্ঠীকে নিয়ে 'সিমডো' নামে একটি আলগা সমন্বয় গড়ে উঠেছে।

প্রিটোরিয়া চুক্তির পর টাইগ্রের বাহিনী ভারী অস্ত্র হস্তান্তর করেছিল এবং হাজারো সাবেক যোদ্ধা নিরস্ত্রীকরণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অঞ্চলটির সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালে টাইগ্রেতে নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগ ও জোর করে লোকজনকে সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার খবর এসেছে, যা চুক্তির ৭ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে টিডিএফ-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা টেকেজে নদী পেরিয়ে বিরোধপূর্ণ তসেলেমত জেলায় প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি কমান্ড পোস্ট সরে গেলে টিডিএফ-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা আলামাতা ও কোরেমের নিয়ন্ত্রণ নেন। আগস্ট মাসে সুদানের সীমান্তের কাছে পশ্চিম টাইগ্রেতেও আবার লড়াই শুরু হয়।

টিপিএলএফের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধও বেড়েছে। ২০২৫ সালে গেতাচেউ রেদাকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাদেসে ওয়ারেদেকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মে মাসে টাইগ্রের আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্বহাল করা হয় এবং দেব্রেতসিয়ন গেব্রেমিকেলকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়, যা তার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। এই ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইগ্রের এক বেসামরিক ব্যক্তি আল-জাজিরাকে বলেন, 'টাইগ্রের মানুষ শান্তি চায়; আমরা দ্বিতীয় কোনো যুদ্ধ চাই না।' কেন্দ্রীয় সরকার ও টিপিএলএফ উভয়ই সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে, তবে এই সংঘর্ষগুলো স্পষ্ট করেছে যে টাইগ্রেতে সংগঠিত সশস্ত্র বাহিনী এখনো দ্রুত সমাবেশ ঘটিয়ে লড়াই করতে সক্ষম।

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৪১আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তিচুক্তির পরও টাইগ্রেতে অস্থিরতা, নতুন করে সংঘাতের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০১:২৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২২ সালের নভেম্বরে ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মধ্যে প্রিটোরিয়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ছিল এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। চুক্তির শর্তানুসারে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ, টাইগ্রের যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ, পুনর্বাসন ও সমাজে পুনঃএকীভূত করা, রাজনৈতিক সংলাপ এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয় এবং ৭ নম্বর ধারায় নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, মোতায়েন বা সামরিক শক্তি সংগঠিত করা নিষিদ্ধ করা হয়।

প্রায় চার বছর পার হলেও প্রিটোরিয়া চুক্তির ফলাফল নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বড় আকারের যুদ্ধ থেমে আছে, তবে যে বিরোধগুলো যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল তার অনেকটাই এখনো মেটেনি। ২০২৪ সালের পর থেকে টিপিএলএফ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নিজেদের অবস্থান নতুন করে শক্ত করেছে এবং তাদের সামরিক প্রভাবও পুরোপুরি শেষ হয়নি। এই সময়ে ইরিত্রিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে টিপিএলএফের যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দুবাই ও জালামবেসায় বৈঠকের তথ্যও রয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধী কয়েকটি গোষ্ঠীকে নিয়ে 'সিমডো' নামে একটি আলগা সমন্বয় গড়ে উঠেছে।

প্রিটোরিয়া চুক্তির পর টাইগ্রের বাহিনী ভারী অস্ত্র হস্তান্তর করেছিল এবং হাজারো সাবেক যোদ্ধা নিরস্ত্রীকরণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় অঞ্চলটির সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালে টাইগ্রেতে নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগ ও জোর করে লোকজনকে সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার খবর এসেছে, যা চুক্তির ৭ নম্বর ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শুরুতে রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। জানুয়ারিতে টিডিএফ-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা টেকেজে নদী পেরিয়ে বিরোধপূর্ণ তসেলেমত জেলায় প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি কমান্ড পোস্ট সরে গেলে টিডিএফ-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধারা আলামাতা ও কোরেমের নিয়ন্ত্রণ নেন। আগস্ট মাসে সুদানের সীমান্তের কাছে পশ্চিম টাইগ্রেতেও আবার লড়াই শুরু হয়।

টিপিএলএফের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধও বেড়েছে। ২০২৫ সালে গেতাচেউ রেদাকে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাদেসে ওয়ারেদেকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের মে মাসে টাইগ্রের আঞ্চলিক পরিষদ পুনর্বহাল করা হয় এবং দেব্রেতসিয়ন গেব্রেমিকেলকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়, যা তার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। এই ক্ষমতার লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগের খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইগ্রের এক বেসামরিক ব্যক্তি আল-জাজিরাকে বলেন, 'টাইগ্রের মানুষ শান্তি চায়; আমরা দ্বিতীয় কোনো যুদ্ধ চাই না।' কেন্দ্রীয় সরকার ও টিপিএলএফ উভয়ই সংঘাতের জন্য পরস্পরকে দায়ী করেছে, তবে এই সংঘর্ষগুলো স্পষ্ট করেছে যে টাইগ্রেতে সংগঠিত সশস্ত্র বাহিনী এখনো দ্রুত সমাবেশ ঘটিয়ে লড়াই করতে সক্ষম।

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৪১আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৫

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh