রাশিয়া কেন আর ‘গ্রেট ব্রিটেন’ বলে ডাকছে না যুক্তরাজ্যকে
- আপডেট সময় : ১১:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ‘গ্রেট ব্রিটেন’ বা ‘ইউনাইটেড কিংডম’-এর পরিবর্তে কেবল ‘ব্রিটেন’ নামটি ব্যবহার করছে। এই নতুন শব্দচয়ন কোনো কূটনৈতিক কৌশল নয়, বরং রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়ার কাছে দেশটির ভাবমূর্তি ও অবস্থানের মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিবর্তন।
২০২৫ সালে রাশিয়ার কূটনৈতিক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাউকে অপমান করা এর লক্ষ্য নয়, তবে দেশটিকে এভাবেই ডাকা উচিত। লাভরভের মতে, কোনো দেশ নিজেই নিজেকে ‘মহান’ বলে অভিহিত করে—এমন একমাত্র উদাহরণ হলো ‘গ্রেট ব্রিটেন’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আরেকটি উদাহরণ ছিল ‘গ্রেট লিবিয়ান জামাহিরিয়া’, কিন্তু সেই দেশটি এখন আর নেই।
ঐতিহাসিকভাবে ‘গ্রেট’ শব্দটি কোনো দেশের মহত্ত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়নি, বরং ভৌগোলিক কারণে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চল থেকে ব্রিটেনকে আলাদা করতে এই নাম রাখা হয়েছিল। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার এই শব্দচয়ন তাৎপর্যপূর্ণ। এই ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূত্র ধরেই ‘দ্য গ্রেট গেম’ নামে ভূরাজনৈতিক পরিভাষারও জন্ম হয়। ১৯০৫ ও ১৯১৭ (১৯০৫ ও ১৯১৭) সালের রুশ বিপ্লবের মধ্যবর্তী সময়ে রাশিয়ার রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর করতে লন্ডন তার সাধ্যের সবটুকুই করেছিল। লন্ডনের আচরণের কারণে দুই দেশের সম্পর্কের মান এরই মধ্যে সর্বকালের নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বলে দাবি করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, রাশিয়ায় নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নাইজেল কেসি দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান সম্পর্কের স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করলেও, পরিস্থিতি এখন সংলাপ ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। লন্ডনে রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মস্কো এখনো কাউকে সেখানে নিয়োগ দেয়নি। দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমে যাওয়ার গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্কের মর্যাদা কমিয়ে দেওয়া মানে শুধু রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার নয়, বরং অন্য পক্ষের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি অসন্তোষের একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করা।
ঐতিহাসিকভাবেও দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা দীর্ঘদিনের। রুশ সাম্রাজ্যের সময় ক্রিমিয়ার যুদ্ধ (১৮৫৩–১৮৫৫) ও মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে ‘দ্য গ্রেট গেম’ পরিভাষার জন্ম হয়। সোভিয়েত যুগে উইনস্টন চার্চিলের ‘ফুলটন ভাষণ’ শীতল যুদ্ধের সূচনা করেছিল। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে সহায়তা করা ও রাশিয়ার ‘কৌশলগত পরাজয়’ নিশ্চিত করতে লন্ডনের ভূমিকা মস্কো ও লন্ডনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।



























