ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উত্তর ইসরাইলে বিস্ফোরণে কিশোর নিহত, নেতানিয়াহুর সফর বাতিল নারায়ণগঞ্জে প্রতিপক্ষের গুলিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাহেব আলী নিহত ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ঘোষণা সৌরবিদ্যুৎ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক মদনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত জাতীয় কন্যাশিশু দিবস দুর্গাপূজায় সারাদেশে ১০ হাজার বিজিবি, থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা ও ওমরাহ যাত্রীদের নিরাপত্তা চাইলেন মামুনুল হক সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ পুনর্বিবেচনার আহ্বান অ্যাটর্নি জেনারেলের ইমরান খানের দলের শত শত নেতাকর্মী আটক, আন্দোলন স্তিমিত সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের প্রবাসী কামরুলের মৃত্যু

রাশিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: চিকিৎসাধীন আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট নিহত ৪

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিকেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই প্রবাসীর নাম মাহিন উদ্দিন। এ নিয়ে ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট চারজন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারালেন।

মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহিন উদ্দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনার দিনও মাহিন তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেছিলেন বলে জানান এই embassy কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি বলে এজিসিসি জানিয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেলেন এবং একজন এখনও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ২৬ আগস্ট এজিসিসি প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর দেয়। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায় বলে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়, যার মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক। দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই এজিসিসি প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আগামী বছরের শুরুতে এটি চালু করার লক্ষ্যে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ আগস্ট প্রথম এক বাংলাদেশির মৃত্যু ও আরেকজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানায় বাংলাদেশ দূতাবাস। পরবর্তীতে তাদের দুজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস নামে তৃতীয় আরেক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সর্বশেষ মাহিন উদ্দিনের মৃত্যুর মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা চারে পৌঁছাল।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রথম দিকে মারা যাওয়া জাকির ও রাজুর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানের মাধ্যমে তাদের মরদেহ ঢাকায় পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের মরদেহের আইনি ও হাসপাতাল সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও ৬-৭ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর তাদের মরদেহও বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: চিকিৎসাধীন আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট নিহত ৪

আপডেট সময় : ০৮:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিকেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই প্রবাসীর নাম মাহিন উদ্দিন। এ নিয়ে ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট চারজন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারালেন।

মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহিন উদ্দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনার দিনও মাহিন তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেছিলেন বলে জানান এই embassy কর্মকর্তা।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি বলে এজিসিসি জানিয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেলেন এবং একজন এখনও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ২৬ আগস্ট এজিসিসি প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর দেয়। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায় বলে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়, যার মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক। দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই এজিসিসি প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আগামী বছরের শুরুতে এটি চালু করার লক্ষ্যে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।

দুর্ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ আগস্ট প্রথম এক বাংলাদেশির মৃত্যু ও আরেকজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানায় বাংলাদেশ দূতাবাস। পরবর্তীতে তাদের দুজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস নামে তৃতীয় আরেক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সর্বশেষ মাহিন উদ্দিনের মৃত্যুর মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা চারে পৌঁছাল।

নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রথম দিকে মারা যাওয়া জাকির ও রাজুর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানের মাধ্যমে তাদের মরদেহ ঢাকায় পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের মরদেহের আইনি ও হাসপাতাল সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও ৬-৭ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর তাদের মরদেহও বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh