রাশিয়ায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: চিকিৎসাধীন আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যু, মোট নিহত ৪
- আপডেট সময় : ০৮:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের একটি গ্যাস কেমিকেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওই প্রবাসীর নাম মাহিন উদ্দিন। এ নিয়ে ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট চারজন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারালেন।
মস্কোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহিন উদ্দিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনার দিনও মাহিন তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিওকলে কথা বলেছিলেন বলে জানান এই embassy কর্মকর্তা।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলেও কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি বলে এজিসিসি জানিয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি কর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেলেন এবং একজন এখনও গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ২৬ আগস্ট এজিসিসি প্রথমে চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর দেয়। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায় বলে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানানো হয়, যার মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক। দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল জায়ান্ট সিবু এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই এজিসিসি প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বড় পলিমার উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আগামী বছরের শুরুতে এটি চালু করার লক্ষ্যে শেষ ধাপের পরীক্ষা চলছিল।
দুর্ঘটনার দুই দিন পর অর্থাৎ ২৭ আগস্ট প্রথম এক বাংলাদেশির মৃত্যু ও আরেকজন নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানায় বাংলাদেশ দূতাবাস। পরবর্তীতে তাদের দুজনের মৃত্যুর পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস নামে তৃতীয় আরেক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সর্বশেষ মাহিন উদ্দিনের মৃত্যুর মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা চারে পৌঁছাল।
নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দূতাবাস কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রথম দিকে মারা যাওয়া জাকির ও রাজুর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানের মাধ্যমে তাদের মরদেহ ঢাকায় পরিবারের কাছে পাঠানো হবে। অন্যদিকে, আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের মরদেহের আইনি ও হাসপাতাল সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও ৬-৭ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর তাদের মরদেহও বাংলাদেশে পাঠানো হবে।


























