ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড় থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র রাতুল উদ্ধার জ্বালানি তেল থেকে ১০ বছরে সরকারের ঘরে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা দেশের ৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তির একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান: জাতিসংঘ মহাসচিব ১৬ দিন পর পাবনা-রাজবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু কূটনৈতিক অবহেলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘পিফোরএম’ সামিটে অনুপস্থিত বাংলাদেশ মঙ্গলে ৫০০০ দিন পার করে নতুন উপত্যকায় নাসার কিউরিওসিটি লালমনিরহাট কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বন্দি, তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি ইরানের বিমান চলাচলের ওপর সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী ও হিন্দু পরিবারের মেয়েদের অধিকার

ইউরোপে অবিক্রীত পোশাক ধ্বংস নিষিদ্ধ: বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিশ্ব ফ্যাশন বাজারে স্থায়িত্ব এবং পরিবেশবান্ধব নীতি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্প্রতি ‘টেকসই পণ্যের পরিবেশবান্ধব নকশা বিধিমালা’ চালু করেছে, যার আওতায় অবিক্রীত পোশাক, অনুষঙ্গ এবং জুতা ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পোশাকশিল্পের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনের ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারলে এটি ঝুঁকির বদলে একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা দিতে পারে।

ইইউর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতিবছর বাজারে আসা মোট পোশাকের ৪ থেকে ৯ শতাংশ বিক্রি হওয়ার আগেই ধ্বংস করা হয়। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ৫৬ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা ২০২১ সালে সুইডেনের বার্ষিক নিট নির্গমনের সমান। এই অপচয় রোধে গত ১৯ জুলাই থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অবিক্রীত পণ্য ধ্বংসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের বেশি কর্মী এবং বার্ষিক লেনদেন অন্তত ৫ কোটি ইউরো, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ২০৩০ সাল থেকে মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোও এই আইনের আওতায় আসবে, তবে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত এর বাইরে থাকছে।

নতুন এই নিয়মের অধীনে পণ্য ধ্বংসের বদলে কোম্পানিগুলোকে তিনটি বিকল্প বেছে নিতে হবে: মূল্যছাড় দিয়ে বিক্রি করা, দাতব্য বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দান করা অথবা পণ্য মেরামত ও সংস্কার করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা। কেবল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, আইনি অসামঞ্জস্য, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন বা মারাত্মক ত্রুটির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে পণ্য ধ্বংস করা যাবে। তবে এসব ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত নথিপত্র সংরক্ষণ, ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা এবং বার্ষিক প্রতিবেদনে বর্জ্যের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা মন্দার দিকে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইইউতে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে এবং এই বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও ভিয়েতনামের রপ্তানি দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, তবে চীনের রপ্তানি ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে।

এই নতুন বাস্তবতায় ইইউর ব্র্যান্ডগুলো তাদের কেনাকাটার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে রয়েছে কাছাকাছি দেশ থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুমানের বদলে দ্রুত সরবরাহযোগ্য ছোট চালানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। প্রথাগতভাবে বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে পণ্য সরবরাহে অভ্যস্ত বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মালিকদের জন্য বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদামাফিক ছোট চালানে উৎপাদন, কাঁচামালের উৎস ও পণ্যের জীবনচক্র অনুসরণে ডিজিটাল পণ্য পরিচয়পত্রের মতো ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং পুনঃচক্রায়নভিত্তিক অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। যথাযথ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসতে সক্ষম হবে।

যদিও ২০২৫ সালের ইইউর পোশাক আমদানি বেড়েছিল ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপে অবিক্রীত পোশাক ধ্বংস নিষিদ্ধ: বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ১০:৫৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব ফ্যাশন বাজারে স্থায়িত্ব এবং পরিবেশবান্ধব নীতি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্প্রতি ‘টেকসই পণ্যের পরিবেশবান্ধব নকশা বিধিমালা’ চালু করেছে, যার আওতায় অবিক্রীত পোশাক, অনুষঙ্গ এবং জুতা ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি পোশাকশিল্পের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনের ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারলে এটি ঝুঁকির বদলে একটি সুযোগ হিসেবেও দেখা দিতে পারে।

ইইউর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতিবছর বাজারে আসা মোট পোশাকের ৪ থেকে ৯ শতাংশ বিক্রি হওয়ার আগেই ধ্বংস করা হয়। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ৫৬ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা ২০২১ সালে সুইডেনের বার্ষিক নিট নির্গমনের সমান। এই অপচয় রোধে গত ১৯ জুলাই থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অবিক্রীত পণ্য ধ্বংসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের বেশি কর্মী এবং বার্ষিক লেনদেন অন্তত ৫ কোটি ইউরো, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ২০৩০ সাল থেকে মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোও এই আইনের আওতায় আসবে, তবে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো আপাতত এর বাইরে থাকছে।

নতুন এই নিয়মের অধীনে পণ্য ধ্বংসের বদলে কোম্পানিগুলোকে তিনটি বিকল্প বেছে নিতে হবে: মূল্যছাড় দিয়ে বিক্রি করা, দাতব্য বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দান করা অথবা পণ্য মেরামত ও সংস্কার করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা। কেবল স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, আইনি অসামঞ্জস্য, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন বা মারাত্মক ত্রুটির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে পণ্য ধ্বংস করা যাবে। তবে এসব ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত নথিপত্র সংরক্ষণ, ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা এবং বার্ষিক প্রতিবেদনে বর্জ্যের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে কিছুটা মন্দার দিকে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইইউর মোট পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ৪১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইইউতে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে এবং এই বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে কমে ২১ দশমিক ০৩ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও ভিয়েতনামের রপ্তানি দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, তবে চীনের রপ্তানি ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে।

এই নতুন বাস্তবতায় ইইউর ব্র্যান্ডগুলো তাদের কেনাকাটার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে। এর মধ্যে রয়েছে কাছাকাছি দেশ থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুমানের বদলে দ্রুত সরবরাহযোগ্য ছোট চালানের দিকে মনোযোগ দেওয়া। প্রথাগতভাবে বড় পরিসরে এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে পণ্য সরবরাহে অভ্যস্ত বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মালিকদের জন্য বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। এর মধ্যে চাহিদামাফিক ছোট চালানে উৎপাদন, কাঁচামালের উৎস ও পণ্যের জীবনচক্র অনুসরণে ডিজিটাল পণ্য পরিচয়পত্রের মতো ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং পুনঃচক্রায়নভিত্তিক অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। যথাযথ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছ সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসতে সক্ষম হবে।

যদিও ২০২৫ সালের ইইউর পোশাক আমদানি বেড়েছিল ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo