রাতে কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত ও মুমিনের করণীয়
- আপডেট সময় : ১০:১৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মুমিনের জীবনে দিনের পাশাপাশি রাতের কিছু সময় ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাতের একাংশে তাসবিহ পাঠ ও সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা ক্বফের ৪০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এবং রাতের একাংশেও তুমি তাঁর তাসবিহ পাঠ কোরো এবং নামাজের পরও।’ এছাড়া সুরা দাহরের ২৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘রাতের একাংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা কোরো এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবিহ পাঠ কোরো।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে রাতের ইবাদতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। হজরত বেলাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই রাতে ইবাদত করবে, কারণ এটি তোমাদের পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের সাধারণ আমল। রাতের এই ইবাদত আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অর্জনের মাধ্যম, পাপকর্মের প্রতিবন্ধক, গুনাহের কাফফারা এবং দেহের রোগ আরোগ্যকারী হিসেবে বিবেচিত হয় (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৯)।
রাতের ইবাদত কেবল নামাজ ও জিকিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কোরআন তিলাওয়াতে নিমগ্ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুরা মুজ্জাম্মিলের ১-৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে কোরআন পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। রাতে কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন রোজা ও কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আমার প্রতিপালক, আমি তাকে পানাহার ও যৌনকর্ম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছিলাম। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করো। নবী (সা.) বলেন, অতএব তাদের উভয়ের সুপারিশ গৃহীত হবে (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৬৬২৬)।
কোরআন তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা আল্লাহর কাছে এতটাই বেশি যে, এ ক্ষেত্রে ঈর্ষা করাও জায়েজ। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, দুই ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে ঈর্ষা করা যায় না। এক. ওই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন এবং সে তা দিন-রাত তিলাওয়াত করে। তার তিলাওয়াত শুনে প্রতিবেশীরা তাকে বলে, হায়, আমাদেরকে যদি এমন জ্ঞান দেওয়া হতো, যেভাবে অমুককে দেওয়া হয়েছে, তাহলে আমিও তার মতো আমল করতাম। দুই. ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং সে ওই সম্পদ সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় করে। এ অবস্থা দেখে অন্য ব্যক্তি বলল, আহ, আমাকে যদি অমুক ব্যক্তির মতো সম্পদ দেওয়া হতো, তাহলে সে যেভাবে ব্যয় করছে, আমিও সেভাবে ব্যয় করতাম (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৭৩৮)।
নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত উদাসীনদের তালিকা থেকে মুক্তি দেয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি গুরুত্বসহ ফরজ নামাজ আদায় করবে সে উদাসীনদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। যে ব্যক্তি রাতে কোরআনের ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে তার নাম উদাসীনদের মধ্যে লেখা হবে না (আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৯৮)।
সাহাবায়ে কেরামও রাতের তিলাওয়াতের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। একবার যুদ্ধের সফরে সাহাবিরা পথে বিশ্রামের জন্য তাঁবু ফেললে কিছু আশআরি সাহাবি রাতে নিজ তাঁবুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন। পরদিন রাসুল (সা.) সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতের তিলাওয়াত শুনে আমি আশআরি ভাইদের আওয়াজ চিনতে পেরেছি। দিনের বেলা তাদের তাঁবু কোথায় তা না জানলেও রাতে তাদের তিলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজ শুনে তা জানতে পেরেছি’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪২৩২)।
এছাড়া হজরত ওসমান (রা.)-এর আমল সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে শহীদ করার জন্য কিছু পাপী লোক যখন তাঁর বাড়িতে ঢুকল, তখন তাঁর স্ত্রী নায়েলা বিনতে ফারাফেসা তাদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা তাঁর মতো একজন পুণ্যবান ও পবিত্র মানুষকে হত্যা করতে এসেছ? অথচ তিনি তো এক রাকাতেই সারা রাত কাটিয়ে দিতেন এবং তাতে পুরো কোরআন সমাপ্ত করতেন (ফাজায়েলে কোরআন : ১/৩৫১)। মহান আল্লাহ সবাইকে আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।



























