ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

সরকারি বেতন বাড়লে বেসরকারি খাতের কর্মীদের কী হবে?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সদ্য ঘোষিত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নবম বেতনকাঠামো নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এই আলোচনার মূলে মূলত চারটি বিষয় ঘুরেফিরে আসছে—বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ এবং বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারি ২০টি গ্রেডের জন্য মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হলেও এটি একবারে কার্যকর না করে চার ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, জানুয়ারি ২০২৭ সালে ৩০ শতাংশ, জুলাই ২০২৭ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন বেতন স্কেলের যৌক্তিকতার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গত কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বেতনকাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিমার্জনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই বেতনকাঠামো যুগোপযোগী করা একটি রুটিন বিষয়। তবে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতার চেয়ে সক্ষমতার বিষয়টি অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। মানুষের শঙ্কার জায়গাটি মূলত মূল্যস্ফীতিকেন্দ্রিক, কারণ অনেকে মনে করছেন বাজারে অতিরিক্ত অর্থের সঞ্চালন মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোট জনশক্তির ২ শতাংশের কাছাকাছি হওয়ায় সরাসরি চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অনেক কম। তবে চাহিদার মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট ও বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে সমন্বয় বিবেচনা করলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃত্রিম সরবরাহ-সংকট তৈরি হয়ে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির আরেকটি উৎস হতে পারে বেতন স্কেলের অর্থায়নের প্রক্রিয়া। যদি অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়ে এই বেতন-ভাতার সমন্বয় করা হয়, তবে তার প্রভাব বাজারে পড়ার আশঙ্কা থাকে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে টাকা ছাপানো কিংবা ঋণ গ্রহণের বিষয়টি এড়িয়ে চলা জরুরি। পাশাপাশি বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে কাটছাঁট করাও দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে না। তাই নতুন বেতন স্কেলের বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সাবধানতার সঙ্গে করতে হবে।

বেসরকারি খাত আমাদের দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রা এর ওপর নির্ভর করে আছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সমগুরুত্ব দিয়ে বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিমার্জনা করার সক্ষমতা তৈরি করা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বেসরকারি খাতের শিল্প ও সেবা খাতে একধরনের শ্লথগতি বিরাজমান। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না এবং বিদ্যমান কলকারখানার উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতকে চাঙা করতে না পারলে কর্মসংস্থান, মজুরি এবং রাজস্ব আদায়ে টান পড়তে পারে। তাই নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে প্রণোদনা দেওয়া, ব্যবসা সহজীকরণের পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া মধ্য মেয়াদে ন্যূনতম মজুরির ক্ষেত্র সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের মজুরির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি বেতন বাড়লে বেসরকারি খাতের কর্মীদের কী হবে?

আপডেট সময় : ০২:০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সদ্য ঘোষিত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নবম বেতনকাঠামো নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এই আলোচনার মূলে মূলত চারটি বিষয় ঘুরেফিরে আসছে—বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ এবং বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারি ২০টি গ্রেডের জন্য মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হলেও এটি একবারে কার্যকর না করে চার ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, জানুয়ারি ২০২৭ সালে ৩০ শতাংশ, জুলাই ২০২৭ সালে ৩০ শতাংশ এবং ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ভাতা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন বেতন স্কেলের যৌক্তিকতার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গত কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে বেতনকাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিমার্জনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশেই বেতনকাঠামো যুগোপযোগী করা একটি রুটিন বিষয়। তবে বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যৌক্তিকতার চেয়ে সক্ষমতার বিষয়টি অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক। মানুষের শঙ্কার জায়গাটি মূলত মূল্যস্ফীতিকেন্দ্রিক, কারণ অনেকে মনে করছেন বাজারে অতিরিক্ত অর্থের সঞ্চালন মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোট জনশক্তির ২ শতাংশের কাছাকাছি হওয়ায় সরাসরি চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা অনেক কম। তবে চাহিদার মাল্টিপ্লায়ার এফেক্ট ও বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে সমন্বয় বিবেচনা করলে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃত্রিম সরবরাহ-সংকট তৈরি হয়ে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতির আরেকটি উৎস হতে পারে বেতন স্কেলের অর্থায়নের প্রক্রিয়া। যদি অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিয়ে এই বেতন-ভাতার সমন্বয় করা হয়, তবে তার প্রভাব বাজারে পড়ার আশঙ্কা থাকে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলে সরকারের ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিপ্রেক্ষিতে টাকা ছাপানো কিংবা ঋণ গ্রহণের বিষয়টি এড়িয়ে চলা জরুরি। পাশাপাশি বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে কাটছাঁট করাও দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনবে না। তাই নতুন বেতন স্কেলের বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে সাবধানতার সঙ্গে করতে হবে।

বেসরকারি খাত আমাদের দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রা এর ওপর নির্ভর করে আছে। নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সমগুরুত্ব দিয়ে বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিমার্জনা করার সক্ষমতা তৈরি করা সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বেসরকারি খাতের শিল্প ও সেবা খাতে একধরনের শ্লথগতি বিরাজমান। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না এবং বিদ্যমান কলকারখানার উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতকে চাঙা করতে না পারলে কর্মসংস্থান, মজুরি এবং রাজস্ব আদায়ে টান পড়তে পারে। তাই নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে প্রণোদনা দেওয়া, ব্যবসা সহজীকরণের পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া মধ্য মেয়াদে ন্যূনতম মজুরির ক্ষেত্র সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের মজুরির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যক্তি খাতকে উৎসাহিত করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo