ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পটিয়ায় কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টাইলস মিস্ত্রির মৃত্যু গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বড় বাধা নেতানিয়াহু, অভিযোগ কাতারের তজুমদ্দিনে মেঘনার তীব্র স্রোতে ট্রলার ডুবি, ৪ জেলে উদ্ধার পুলিশ প্রতিবেদনে বাদ আড়াই হাজার, ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থীরা কোটালীপাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদী থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল জাসদ কার্যালয় থেকে আটক ২৮৯ জনের মধ্যে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নারী চিকিৎসকের মৃত্যু যাত্রীবাহী বগি ফেলে এক কিলোমিটার দূরে ছুটল ট্রেনের ইঞ্জিন

১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় মেটার ব্যবসায়িক মডেলে বড় কোনো পরিবর্তন নেই

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং বিভিন্ন মার্কিন অঞ্চলের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে সম্পন্ন এই সমঝোতার আওতায় মেটাকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিফল্ট নিরাপত্তা সরঞ্জাম চালু করা, অভিভাবকদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত ফিড নিয়ন্ত্রণের সুবিধা, দৈনিক স্ক্রিন-টাইম সীমা নির্ধারণ এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক সার্জারি বা চেহারা পরিবর্তনের ফিল্টারের মতো ফিচারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।

তবে এই বিশাল অংকের সমঝোতা সত্ত্বেও মেটা তার ব্যবসায়িক মডেলের মূল কাঠামোতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। সমালোচকদের মতে, মেটার অ্যালগরিদমনির্ভর ব্যবসায়িক কাঠামোই শিশু ও কিশোরদের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ এই নকশা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে প্ররোচিত করে। সমঝোতায় এই মূল ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এছাড়া, মেটা এই সমঝোতার মাধ্যমে কোনো দায় স্বীকার করেনি, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির আগেই মামলার ইতি টানা হলো। মামলা চলাকালে ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল এবং আর্তুরো বেহারের মতো সাবেক নিরাপত্তা প্রকৌশলীদের অভিযোগও সামনে এসেছিল।

গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বিলিয়ন ডলারের এই অংক মেটার সামগ্রিক ব্যবসার তুলনায় খুব একটা বড় নয়। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার তুলনায় এই জরিমানার প্রভাব সীমিত। ফলে শুধুমাত্র আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে মেটাকে তার ব্যবসায়িক পদ্ধতি পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং অ্যালগরিদমের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধের কথা ভাবছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা ছাড়াও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সহিংসতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ ছড়িয়ে পড়ার মতো বৃহত্তর সামাজিক ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন মামলা বা জরিমানার পরিবর্তে মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর ও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। মেটার এই সমঝোতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় মেটার ব্যবসায়িক মডেলে বড় কোনো পরিবর্তন নেই

আপডেট সময় : ১২:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং বিভিন্ন মার্কিন অঞ্চলের সঙ্গে ১৮ বিলিয়ন ডলারের একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে সম্পন্ন এই সমঝোতার আওতায় মেটাকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বাড়াতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিফল্ট নিরাপত্তা সরঞ্জাম চালু করা, অভিভাবকদের জন্য ব্যক্তিগতকৃত ফিড নিয়ন্ত্রণের সুবিধা, দৈনিক স্ক্রিন-টাইম সীমা নির্ধারণ এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কসমেটিক সার্জারি বা চেহারা পরিবর্তনের ফিল্টারের মতো ফিচারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।

তবে এই বিশাল অংকের সমঝোতা সত্ত্বেও মেটা তার ব্যবসায়িক মডেলের মূল কাঠামোতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আনেনি। সমালোচকদের মতে, মেটার অ্যালগরিদমনির্ভর ব্যবসায়িক কাঠামোই শিশু ও কিশোরদের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ, কারণ এই নকশা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখতে প্ররোচিত করে। সমঝোতায় এই মূল ব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এছাড়া, মেটা এই সমঝোতার মাধ্যমে কোনো দায় স্বীকার করেনি, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির আগেই মামলার ইতি টানা হলো। মামলা চলাকালে ইনস্টাগ্রাম প্রধান অ্যাডাম মোসেরিসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল এবং আর্তুরো বেহারের মতো সাবেক নিরাপত্তা প্রকৌশলীদের অভিযোগও সামনে এসেছিল।

গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বিলিয়ন ডলারের এই অংক মেটার সামগ্রিক ব্যবসার তুলনায় খুব একটা বড় নয়। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার তুলনায় এই জরিমানার প্রভাব সীমিত। ফলে শুধুমাত্র আর্থিক জরিমানার মাধ্যমে মেটাকে তার ব্যবসায়িক পদ্ধতি পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং অ্যালগরিদমের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধের কথা ভাবছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা ছাড়াও অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সহিংসতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ ছড়িয়ে পড়ার মতো বৃহত্তর সামাজিক ঝুঁকি রয়েছে। তাই বিচ্ছিন্ন মামলা বা জরিমানার পরিবর্তে মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর ও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। মেটার এই সমঝোতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh