নড়াইলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু, তিন শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে
- আপডেট সময় : ০২:৩৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

নড়াইল সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসার শিক্ষকদের মারধরের কারণে ওই শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুধবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, বুধবার ভোররাতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীটির অসুস্থতার খবর দেয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর পাঠানোর পরামর্শ দেন। যশোর নেওয়ার পথে বেলা তিনটার দিকে সে মারা যায়।
নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষকেরা তার সন্তানকে মারধর করেছেন। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার আসরের নামাজের সময়ও তার সন্তান সুস্থ ছিল। তিনি বলেন, 'এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। ওই মাদ্রাসায় ওরা জোর করে আমার সন্তানডারে মাইরে ফেলিছেরে। কালকে দেহে আসলাম আমার সন্তানডারে। আসরের সময় একসঙ্গে নামাজ পড়লাম। তার শরীলি রোগ বলতি কিছু নাই। সেই সন্তানডারে রাত্রিরি হয়তো বারি দেছে, রগ কাইটে গেছে।'
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'এরাম অসুস্থ, তোরা ফোন কর। আমাদের ফোন করিনি। সকাল ১০টায় আমাদের জানাইছে, যহন ছেলেডা বেহুঁশ হয়ে গেছে। ওর মা যায়ে দেহে ঘাড় সোজা হচ্ছে না, ঘাড় ভাঙ্গে গেছে। হাসপাতালে আমি গেলি ছেলে আমারে কিছু বলতি চাচ্ছেলো, কিন্তু বলতি পারেনি। রাত্রে ওখানে দুইজন শিক্ষক দায়িত্বে থাকে। কোন শিক্ষক যে মারিছে, তা তো বলতি পারতিছি নে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাজা হওয়া উচিত।'
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা শিক্ষকেরা হলেন ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০) ও ফাহাদ শেখ (৩২)। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইল সদর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার মুহতামিম (পরিচালক) নাজমুস সাহাদাত আল মামুনকে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি 'কল ব্যাক করছি' বলে সংযোগ কেটে দেন। পরবর্তীতে তাঁকে আর পাওয়া যায়নি।





























