আগস্টে ১৩.১৪ শতাংশ বেড়ে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৪৪৩ কোটি ডলার
- আপডেট সময় : ১০:০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের পণ্য রপ্তানি খাতে ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসে পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩.১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩৯২ কোটি ডলার, যা এ বছর বেড়ে ৪৪৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে তৈরি পোশাক খাত। আগস্ট মাসে পোশাক রপ্তানি ১৩.৯২ শতাংশ বেড়ে ৩৮৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি ১৪.৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি ১২.৭০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাব অনুযায়ী, পোশাক রপ্তানি ৫.১২ শতাংশ বেড়ে ৭৫০ কোটি ডলার হয়েছে, যেখানে নিট পোশাকে ৬.১৭ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ৩.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
পোশাক খাতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৭.০৯ শতাংশ। এছাড়া ওষুধ রপ্তানি ২৮.৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ২৪.৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রী ২৪.৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্য ২৩.৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য ধরনের পাদুকা রপ্তানি ১৫.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান অপ্রচলিত খাতগুলোর মধ্যে মুদ্রিত সামগ্রী খাতে ৪১.৮৯ শতাংশ এবং ওষুধ খাতে ৩৮.৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পাদুকা খাতে ২৭.৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্য খাতে ২২.২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বাজারভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টে রপ্তানি বেড়েছে ২৬.০৯ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশটিতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.৯০ শতাংশ। যুক্তরাজ্য পুনরায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারের অবস্থানে ফিরে এসেছে। এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৪১.০৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৪২.৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে বেড়েছে ৪২.০৯ শতাংশ।
প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য পণ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়া, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নিট ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য ও পাদুকা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


























