টাকা দিলেই অনলাইনে মিলছে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ও কল ডিটেইলস
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচাকে ঘিরে অনলাইনে গড়ে উঠেছে এক সক্রিয় বাজার। ফেসবুক বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন ওয়েবসাইট, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এসব তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), মোবাইল ফোনের অবস্থান, এসএমএসের তালিকা, টিআইএন, পাসপোর্টের তথ্য এবং মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব বিবরণী এখন অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধু ফেসবুক প্ল্যাটফর্মেই এক মাসে ৬০০টির বেশি বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা হয়েছে। জুনে ভোটার তালিকা বিক্রির বিষয়ে অনুসন্ধান করার সময় ডিসমিসল্যাব প্রথম এই ধরনের বিজ্ঞাপনের সন্ধান পায়। ‘সাইন কপি’ কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ৬৭৫টি পোস্ট পাওয়া যায়, যার মধ্যে ৬০৫টিতেই ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির প্রস্তাব ছিল।
গবেষকেরা নিজেরাই ক্রেতা সেজে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে এনআইডি কেনার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। মাত্র ৫০০ টাকা দেওয়ার ১৭ মিনিটের মধ্যেই গবেষকেরা একটি মুঠোফোন নম্বরের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের এনআইডি কার্ডের পিডিএফ ফাইল হাতে পান। ওই ফাইলে থাকা নাম, ছবি ও জন্মতারিখের তথ্যের সঙ্গে সিম-মালিকের তথ্যের হুবহু মিল পাওয়া যায়, এমনকি দুই মাস আগে সংশোধন করা মায়ের নামটিও ছিল হালনাগাদ।
একইভাবে ‘হেল্প বিডি’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সিডিআর, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, আইএমইআই নম্বর, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল। ডিসমিসল্যাব ২৫ জুন ওই অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের তিন মাসের কল ডিটেইলস রেকর্ড চায়। ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই তারা কাঙ্ক্ষিত ফাইলটি পেয়ে যায়। ফাইলে থাকা ২০টি সাম্প্রতিক কল নম্বর ও সময়ের সঙ্গে গ্রাহকের প্রকৃত কল-ইতিহাস মিলিয়ে দেখা হলে সব তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। অন্য একটি পরীক্ষায় টাকা দেওয়ার ১৬ মিনিটের মধ্যেই একটি মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ সক্রিয় সময়, টাওয়ারভিত্তিক অবস্থান ও গুগল ম্যাপের লিংক সরবরাহ করা হয়।
ডিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এসব পোস্ট ও গ্রুপে যোগাযোগের জন্য অন্তত ১১২টি ভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক বিক্রেতা সরাসরি তথ্যের উৎস নন, বরং তারা অন্য ওয়েবসাইট বা গ্রুপ থেকে তথ্য কিনে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন। এক বিক্রেতা দাবি করেছেন, তারা এপিআই ব্যবহার করে সরকারি সার্ভারের নিরাপত্তা ভেঙে তথ্য সংগ্রহ করে, তবে ডিসমিসল্যাব এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০২৩ সাল থেকেই এ ধরনের পোস্ট ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে এবং ২০২৫ সালের মার্চে ইউটিউবেও এ সংক্রান্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিডিআর থেকে একজন ব্যক্তির কথোপকথনের ধরন, সময় ও স্থায়িত্ব জানা যায়। এর সঙ্গে টাওয়ার লোকেশন ও আইএমইআই নম্বর যুক্ত থাকলে ব্যক্তির চলাচলের গতিবিধিও বোঝা সম্ভব। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের তথ্য নজরদারি, হয়রানি বা প্রতারণার কাজে ব্যবহারের বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।
ওই মালিক জানান, তিনি ৮০০ টাকায় মোবাইল গ্রাহকের কল তালিকা কিনে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেন।



























