ভেস্তে গেছে কুতুবদিয়ায় পর্যটন বিকাশে নেওয়া মেগা প্রকল্প
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যে নেওয়া মেগা প্রকল্পটি কার্যত ভেস্তে গেছে। দ্বীপটিতে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত থাকলেও পর্যটন সুবিধা বাড়াতে বা সৌন্দর্যবর্ধনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আজ থেকে সাত বছর আগে তৎকালীন নির্বাহী অফিসার সুজন চৌধুরী দ্বীপটিতে পর্যটন বিকাশে একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি থানার পুকুরঘেঁষে ভূমি অফিসের সামনে 'সিটিজেন পার্ক' নামে একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলেন।
সেই সময় প্রকল্পটির আওতায় বলাকা পানির ফোয়ারা, প্রবেশদ্বার, বিভিন্ন দেয়াল পোস্টার এবং মাছ, ফল ও জীবজন্তুর ম্যুরালসহ প্রায় ২০টি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। একইসঙ্গে বড়ঘোপ স্টিমারঘাটে ডলফিন ভাস্কর্য ও দর্শনার্থীদের বসার জায়গা তৈরি করা হয়েছিল। এই কাজগুলোতে কয়েক দফায় প্রায় ১৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। তবে নির্মাণের কিছুদিন পরই অজ্ঞাত কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে পার্কটি চরম অবহেলার শিকার। স্থানীয় এনজিওকর্মী উম্মে খাইরুন্নেছা উর্মী জানান, তিনি তার সন্তানকে নিয়ে সেখানে ঘুরতে যান, কিন্তু বর্তমানে পার্কটির অবস্থা খুবই নাজুক। অনেক ম্যুরাল ভেঙে গেছে এবং রঙ উঠে সৌন্দর্য হারিয়েছে। তিনি মনে করেন, সংস্কার করা হলে স্থানীয় পর্যটকরা নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করতে পারতেন।
প্রকল্পটির কারিগর মাহাবুব জানান, বলাকা পানির ফোয়ারার জন্য বিদ্যুৎ ও পানির লাইন থাকলেও সংযোগের মোটর চুরি হওয়ার পর আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি মনে করেন, ম্যুরাল মেরামত এবং নতুন কিছু স্থাপনা তৈরি করলে পার্কটি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। গত সাত বছরে বেশ কয়েকজন নির্বাহী অফিসার দায়িত্ব পালন করলেও কেউই প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেননি।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সিটিজেন পার্কের জন্য আলাদা কোনো প্রকল্প নেই। তবে নতুন একটি শিশু পার্ক নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সিটিজেন পার্ক এবং স্টিমারঘাটের ক্ষতিগ্রস্ত ম্যুরালগুলো সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























