গাজীপুর সাফারি পার্কে পর্যটক ও তাঁর দুই সন্তানকে মারধরের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সাফারি পার্কে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক নারী পর্যটক, তাঁর দুই কিশোর সন্তান এবং গাড়িচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেল চারটার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং পার্কের অস্থায়ী (আউটসোর্সিং) কর্মচারী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পর্যটক সালমা মোস্তারী জানান, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শনিবার সাফারি পার্কে ঘুরতে আসেন এবং বন্য প্রাণী দেখার জন্য পর্যটন বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। বাসে ওঠার সময় ভেতরে ময়লা-আবর্জনা দেখে তারা পার্কের কর্মীদের জানালে কথা–কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পার্কের কর্মীরা এক পর্যায়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং এর প্রতিবাদ করলে পর্যটকদের বহনকারী গাড়িটি নির্দিষ্ট স্থানে না থামিয়ে পার্কের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্টিলের লাঠি দিয়ে সালমা মোস্তারী, তাঁর দুই কিশোর ছেলে এবং গাড়িচালক মো. রাসেলকে মারধর করা হয়।
সালমা মোস্তারী আরও অভিযোগ করেন যে, মারধরের সময় তাঁর গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের মালা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকা চুরি করা হয়। এছাড়া তাঁর ও তাঁর দুই ছেলের আইফোনগুলো মাটিতে ফেলে ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার পর তাদের সাফারি পার্কের একটি অফিসকক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ ফোন করলে শ্রীপুর থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে সালমা মোস্তারী জানান যে তিনি অসুস্থ বোধ করছেন এবং এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এদিকে, ঘটনার অন্য একটি দিক তুলে ধরে বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, পর্যটকদের সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে মো. মমিন নামের একজন বনকর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, 'আমাদের মো. মুমিন নামের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাঁকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।' তিনি জানান, স্টাফকে আহত করার পর পর্যটকদের পার্ক অফিসে আলোচনার জন্য আনা হয় এবং সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।




























