মৌলভীবাজারের সবুজে সোনালি চন্দ্রপ্রভার হলুদ উৎসব
- আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার শহরের সৈয়দ মুজতবা আলী সড়ক এবং সংলগ্ন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এখন চন্দ্রপ্রভা ফুলের হলুদ-সোনালি আভায় সেজেছে। সকালের রোদ বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির ওপর পড়তেই গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা এই ফুলগুলো যেন সোনালি প্রলেপ তৈরি করেছে। শহরের ইট-পাথরের ব্যস্ততায় এই ফুলের সমারোহ এক মায়াবী দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে।
সড়কটির পূর্ব প্রান্ত থেকে শুরু করে এম সাইফুর রহমান মিলনায়তন পর্যন্ত সারিবদ্ধ গাছগুলোয় এখন ফুলের উচ্ছ্বাস। কোনো কোনো ডালে থোকা থোকা ফুল এমনভাবে ফুটে আছে যে ফুলের ভারে ডালগুলো নুয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পর ফুলগুলো আরও সতেজ ও কোমল হয়ে উঠেছে। এই ফুলের রাজ্যে মৌমাছি ও ভ্রমরের গুঞ্জনে চারপাশ মুখর থাকে। সকালের রোদে চন্দ্রপ্রভার রং আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং হাওয়ায় দুলতে থাকে সোনালি ঢেউ। রাতের বৃষ্টিতে কিছু ফুল ঝরে পড়ে সীমানাপ্রাচীর ও সবুজ ঘাসের ওপর বিছিয়ে থাকতে দেখা গেছে। সকালে কিছু মানুষকে ফুল ছিঁড়তে দেখা গেলেও এতে গাছের ডাল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই গাছগুলো রোপণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা ও কানাডাপ্রবাসী প্রয়াত নুরুর রহমান। তিনি গাছগুলো টিকিয়ে রাখার জন্য বাঁশের ঝুপড়ি ও পানির ব্যবস্থা করেছিলেন। এই উদ্যোগে তাকে সহায়তা করেছেন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও চিকিৎসক এম এ আহাদ এবং লেখক ও সম্পাদক মো. আবদুল খালিক। এছাড়া মৌলভীবাজার পৌরসভা ও সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও গাছগুলো রক্ষায় সহযোগিতা করেছে।
চন্দ্রপ্রভা বা সোনাপাতি নামে পরিচিত এই উদ্ভিদটি মূলত আমেরিকায় আদি নিবাস হলেও বাংলাদেশে এখন বেশ পরিচিত। এটি ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু ঝোপালো ধরনের গাছ। উজ্জ্বল হলুদ ঘণ্টা আকৃতির ফুল ভ্রমর ও প্রজাপতিকে আকৃষ্ট করে। শরতের নীল আকাশের নিচে দুলতে থাকা এই সোনালি ফুলগুলো এখন মৌলভীবাজার শহরের মানুষের জন্য এক বাড়তি আনন্দের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।



























