হিমালয়ে ভূমিধসে ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, জরুরি সহায়তার আহ্বান
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই দুর্গত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন (আইএফআরসি)। জেনেভায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নেপালে আইএফআরসির প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার এই তথ্য জানান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে এবং একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে ফিশার জানান, ভূমিধসের ফলে সৃষ্ট একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে পড়ায় ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো আটকে পড়েছিল। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তরের প্রধান কমল কিশোর বলেছেন, দুর্যোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং কিছু এলাকায় পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা আরও বিপদের কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবার ওপরও এই বিপর্যয়ের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখপাত্র তারিক ইয়াসারেভিচ জানান, ভূমিধসে ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্যোগের পর মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ায় জনাকীর্ণ পরিবেশে পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। এতে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসার মতো জরুরি সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির দিকেও সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।





























