ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে: আফগানিস্তানকে ৩৩ রানে হারিয়ে বাংলাদেশের জয় ফেনীর সোনাগাজীতে মাদকসহ ছাত্রদলের দুই নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪ জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ রাজধানীর শান্তিনগরে পুলিশ বক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ রিয়াল বেতিসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে শীর্ষে অবস্থান শক্ত করল বার্সেলোনা অস্ত্র নিয়ে কাউকে ভয় দেখাইনি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি: ইশরাক জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আইজিপি সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

ইরানকে রুখতে ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে নতুন জোট চায় ইসরাইল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সমন্বয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম রাইখম্যান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হার্জলিয়া সম্মেলনে এই কৌশলের কথা তুলে ধরেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এই অঞ্চলের প্রতিটি পক্ষের কাছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ঝুঁকি স্পষ্ট করে দিয়েছে। ফলে ভারত থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাস পর্যন্ত একটি বৃহত্তর জোট গঠনের অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের দেশগুলোর মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারতকে যুক্ত করা। গত এক দশকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছে, যার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রিস তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ইসরাইলি প্রযুক্তির আদলে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের একটি প্রতিরক্ষা ছাতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। গ্রিসের সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনি জানিয়েছে, এথেন্স ইসরাইলের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি বড় ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে।

গ্রিসের প্রতিরক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) তৈরি বারাক এমএক্স ব্যবস্থা এবং রাফায়েলের তৈরি স্পাইডার অল-ইন-ওয়ান ও ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে রোমানিয়াও ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের কাছ থেকে স্পাইডার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে। গ্রিস, সাইপ্রাস ও ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের এই ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ধীরগতির সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আজকের এই নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে এই জোট গঠনের পথে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের বর্তমান সম্পর্ক একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হলেও ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান ও হর্ন অব আফ্রিকায় বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগে জড়িয়েছে, যার কিছু ক্ষেত্রে তারা হতাশও হয়েছে। আমির বারাম মনে করেন, ইরান দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে বিধায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো কৌশলগত মিত্র ও অন্যান্য অংশীদারদের নিয়ে ইসরাইলের একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো প্রস্তুত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ইসরাইল ও ভারতকে যুক্ত করে একটি ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। তবে ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রিয়াদ এখন চায় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরও মধ্যপন্থী নীতি অনুসরণ করুক। পশ্চিম তীরে সহিংসতা, সিরিয়ায় হামলার বিষয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের হুমকি এবং গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের আলোচনাকে সৌদি আরব ভালোভাবে দেখছে না। ইসরাইল যদি বাণিজ্যের চেয়ে সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তবে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রিয়াদ জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্কের বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানকে রুখতে ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে নতুন জোট চায় ইসরাইল

আপডেট সময় : ০২:৩০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সমন্বয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আমির বারাম রাইখম্যান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হার্জলিয়া সম্মেলনে এই কৌশলের কথা তুলে ধরেন। বুধবার অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে তিনি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এই অঞ্চলের প্রতিটি পক্ষের কাছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ঝুঁকি স্পষ্ট করে দিয়েছে। ফলে ভারত থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাস পর্যন্ত একটি বৃহত্তর জোট গঠনের অভিন্ন স্বার্থ তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের দেশগুলোর মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারতকে যুক্ত করা। গত এক দশকে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছে, যার মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রিস তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ইসরাইলি প্রযুক্তির আদলে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের একটি প্রতিরক্ষা ছাতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। গ্রিসের সংবাদমাধ্যম একাথিমেরিনি জানিয়েছে, এথেন্স ইসরাইলের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ইউরোর একটি বড় ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন নিশ্চিত করার পথে এগোচ্ছে।

গ্রিসের প্রতিরক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (আইএআই) তৈরি বারাক এমএক্স ব্যবস্থা এবং রাফায়েলের তৈরি স্পাইডার অল-ইন-ওয়ান ও ডেভিডস স্লিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে রোমানিয়াও ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের কাছ থেকে স্পাইডার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে। গ্রিস, সাইপ্রাস ও ভারতের সঙ্গে ইসরাইলের এই ঘনিষ্ঠতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ধীরগতির সম্পর্কের মধ্য দিয়ে আজকের এই নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে এই জোট গঠনের পথে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের বর্তমান সম্পর্ক একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ৭ অক্টোবরের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সাধারণত বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হলেও ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান ও হর্ন অব আফ্রিকায় বিভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি উদ্যোগে জড়িয়েছে, যার কিছু ক্ষেত্রে তারা হতাশও হয়েছে। আমির বারাম মনে করেন, ইরান দ্রুত তার সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে বিধায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো কৌশলগত মিত্র ও অন্যান্য অংশীদারদের নিয়ে ইসরাইলের একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো প্রস্তুত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলোর মাধ্যমে ইসরাইল ও ভারতকে যুক্ত করে একটি ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্য’ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। তবে ৭ অক্টোবরের আগের পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের যে উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। রিয়াদ এখন চায় ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের প্রতি আরও মধ্যপন্থী নীতি অনুসরণ করুক। পশ্চিম তীরে সহিংসতা, সিরিয়ায় হামলার বিষয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের হুমকি এবং গাজায় নতুন বসতি স্থাপনের আলোচনাকে সৌদি আরব ভালোভাবে দেখছে না। ইসরাইল যদি বাণিজ্যের চেয়ে সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তবে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করিডর গড়ে তোলার পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে রিয়াদ জর্ডান, সিরিয়া ও তুরস্কের বিকল্প পথ বেছে নিতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh