ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ উদ্বোধনের পরই অচল অন্তর্বর্তী সরকারের নাগরিক সেবাকেন্দ্র, ৪টিতেই তালা স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কারে স্বাস্থ্য কমিশন গঠনের প্রস্তাব ১১ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত ক্লাব ছাড়তে মরিয়া আলভারেজ ও এনজো, নতুন গন্তব্যের খোঁজে দুই বন্ধু নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের চাপে ইইউর দিকে ঝুঁকছে আইসল্যান্ড গ্যাস সংকটে ফতুল্লার পোশাক কারখানার উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে লুপাস নেফ্রাইটিসে প্রাণ হারাল সখীপুরের ১০ বছরের শিশু সাদিয়া রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: দ্রুত চার্জশিট ও সুবিচারের আশ্বাস আরপিএমপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি জামায়াত ও এনসিপি’র

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উপজেলা ও পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের এসব নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকরা জোটগত সমঝোতার পথ খোলা রাখলেও আপাতত এককভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বছরের শেষ দিকে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী পরিষদগুলোতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত, সততা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে ১৪ জন নেতাকে অঞ্চল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে আবদুল হালিম, বগুড়ায় এ টি এম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে মোয়াযযম হোসাইন, ময়মনসিংহে মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরীতে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণে আবদুর রব, ফরিদপুরে হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেটে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালীতে এ টি এম মাছুম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুহাম্মদ শাহজাহান দায়িত্ব পালন করছেন। যেসব এলাকায় স্থানীয় রাজনীতি বা প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা রয়েছে, সেখানে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা প্রার্থীদের স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে দলটি।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে ৬৪টি উপজেলা ও ৩৪টি পৌরসভায় প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভা থেকে আসা এক হাজারের বেশি আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে পরিশ্রমী হওয়া, গ্রহণযোগ্যতা এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনসিপি'র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে আরও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

১১ দলের লিয়াজোঁ সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এনসিপি'র নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, বর্তমানে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে এবং জোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

উল্লেখ্য, অতীতে ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত ৩৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ১২৬টিতে ভাইস চেয়ারম্যান ও ২৬টিতে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছিল। দলটি নিবন্ধন হারালেও ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭৯টিতে চেয়ারম্যান পদে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন এবং ২০১৯ সালে চারটি পৌরসভায় তারা বিজয়ী হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি জামায়াত ও এনসিপি’র

আপডেট সময় : ০১:১৭:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উপজেলা ও পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের এসব নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিকরা জোটগত সমঝোতার পথ খোলা রাখলেও আপাতত এককভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বছরের শেষ দিকে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী পরিষদগুলোতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত, সততা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে ১৪ জন নেতাকে অঞ্চল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে আবদুল হালিম, বগুড়ায় এ টি এম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে মোয়াযযম হোসাইন, ময়মনসিংহে মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরীতে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণে আবদুর রব, ফরিদপুরে হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেটে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালীতে এ টি এম মাছুম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুহাম্মদ শাহজাহান দায়িত্ব পালন করছেন। যেসব এলাকায় স্থানীয় রাজনীতি বা প্রার্থী নিয়ে দ্বিধা রয়েছে, সেখানে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা প্রার্থীদের স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে দলটি।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতিমধ্যে ৬৪টি উপজেলা ও ৩৪টি পৌরসভায় প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০ পৌরসভা থেকে আসা এক হাজারের বেশি আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে পরিশ্রমী হওয়া, গ্রহণযোগ্যতা এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনসিপি'র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে আরও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

১১ দলের লিয়াজোঁ সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এনসিপি'র নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য সারোয়ার তুষার জানান, বর্তমানে এককভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে এবং জোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

উল্লেখ্য, অতীতে ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত ৩৬টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ১২৬টিতে ভাইস চেয়ারম্যান ও ২৬টিতে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছিল। দলটি নিবন্ধন হারালেও ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭৯টিতে চেয়ারম্যান পদে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হন এবং ২০১৯ সালে চারটি পৌরসভায় তারা বিজয়ী হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin