ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাকেরগঞ্জে সড়ক ও নদীভাঙনে চরম দুর্ভোগ, সংস্কারের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ‘পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৪৩ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর টাকা ফেরত পেতে আইনি লড়াই শুরু নাটোরে ১৪০ বোতল এসকাফ সিরাপসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আফ্রিকার দুর্গম এলাকায় চিকিৎসাসেবার জন্য সৌর অ্যাম্বুলেন্স উদ্ভাবন মঠবাড়িয়ায় পানি সংকট নিরসনে সরেজমিনে ইউএনও ও পৌর প্রশাসক লালমোহনে ৫০ ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারি আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসল করতে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, ৫ বছরের শিশু নিহত নেপালে বন্যার মরদেহের দুল চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি বিল পরিশোধে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানির বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ লক্ষ্যে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এখন এই খাতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিদ্যমান সমস্যা এক দিনে সমাধান হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সেমিনারে আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যারা প্রণোদনার শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারা ঋণ সহায়তা পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক, সেগুলো নিরসন করা হবে। ডিরেগুলেশন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও সরকার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো এবং বিকল্প অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না। তিনি অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে হয়রানিকে একটি নেতিবাচক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে করজাল সম্প্রসারণে হয়রানি কমানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমাতে কাঠামোগত সমস্যা নিরসন, এসএমইদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের নজরদারির জন্য ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বিনিয়োগ স্থবিরতা, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক এবং উচ্চ শুল্কহারের সমালোচনা করেন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান রাজস্ব আহরণে বিপ্লব এবং মুদ্রানীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন। ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বন্দর ও কাস্টমস সেবার দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জ্বালানি প্রাপ্তিসহ সহায়ক ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, যেখানে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২৬ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে মাত্র ৫ শতাংশ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি বিল পরিশোধে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরকারের জ্বালানির বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পরিস্থিতি; প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সব ধরনের জ্বালানি উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে প্রাথমিকভাবে সৌরশক্তির ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে এবং বাজেটে এ লক্ষ্যে নানা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এখন এই খাতে বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিদ্যমান সমস্যা এক দিনে সমাধান হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার জ্বালানি খাতে তিন মাসের মজুত নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সেমিনারে আর্থিক খাত পুনরুদ্ধার নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যারা প্রণোদনার শর্ত পূরণ করতে পারবে, তারা ঋণ সহায়তা পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হবে না। স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা যত গভীরেই থাকুক, সেগুলো নিরসন করা হবে। ডিরেগুলেশন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো বাস্তবায়ন করা কঠিন হলেও সরকার এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো এবং বিকল্প অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে আমরা একটি যুগসন্ধিক্ষণে রয়েছি। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না। তিনি অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে হয়রানিকে একটি নেতিবাচক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে করজাল সম্প্রসারণে হয়রানি কমানোর ওপর জোর দেন। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমাতে কাঠামোগত সমস্যা নিরসন, এসএমইদের ঋণসুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের নজরদারির জন্য ‘ইকোনমিক রিফর্ম এক্সিলারেশন ইউনিট’ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।

আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বিনিয়োগ স্থবিরতা, উচ্চ সুদের হার, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার নীতিমালা ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফারাক এবং উচ্চ শুল্কহারের সমালোচনা করেন। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান রাজস্ব আহরণে বিপ্লব এবং মুদ্রানীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক ব্যাংকের তারল্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন। ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে বন্দর ও কাস্টমস সেবার দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জ্বালানি প্রাপ্তিসহ সহায়ক ব্যবসার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, যেখানে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ২৬ শতাংশ হলেও বেসরকারি খাতে মাত্র ৫ শতাংশ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo