ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানবাধিকার লঙ্ঘন: এনসিপি
- আপডেট সময় : ০৭:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের হামলায় অর্ধশতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনাকে অপতথ্য ছড়িয়ে আড়ালের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। তিনি বলেন, ছাত্রদের মাথা লক্ষ্য করে যেভাবে লাঠিচার্জ ও গুলি চালানো হয়েছে, তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন সংলগ্ন জামেয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়া মাদরাসায় আহত শিক্ষার্থীদের সশরীরে দেখতে যান মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি। সেখানে তাদের সার্বিক খোঁজ-খবর নেওয়ার পর আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে তিনি ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও ধারাবাহিকতা তুলে ধরেন। এ সময় এনসিপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আশরাফ মাহদি জানান, গত ১৯ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে মধ্যরাতে কনসার্টে শব্দদূষণের সময় জামেয়া দারুল আরকাম মাদরাসার পরীক্ষার্থীরা তা কমানোর অনুরোধ জানায়। ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শব্দ বন্ধ করতে ছাত্ররা অনুরোধ জানালে পুলিশ প্রথমে সাউন্ড কমিয়ে দিলেও পরবর্তীতে তা আবার বাড়িয়ে দেয়। পরদিন সকালে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে পুলিশ লাইন্সের মূল ফটকে উপস্থিত হয়। ছাত্ররা কোনো বিশৃঙ্খলা বা জোরপূর্বক প্রবেশের উদ্দেশ্যে সেখানে যায়নি এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও দিয়েছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে অনুরোধ জানানোর মাঝখানেই আকস্মিকভাবে পুলিশ লাইন্সের মেইন গেট আটকে দেওয়া হয়। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই নিরস্ত্র কোমলমতি ছাত্রদের ওপর চারপাশ থেকে অতর্কিত হামলা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে পুলিশের ভূমিকার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি ছিল। অথচ এই সত্য আড়াল করে মূলধারার গণমাধ্যমের একটি অংশ সুপরিকল্পিতভাবে একপাক্ষিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সরেজমিনে এসে প্রকৃত ঘটনা জেনে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানাচ্ছি।
পরিদর্শনের সময় এনসিপির নেতারা জামেয়া দারুল আরকাম মাদরাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।




























