ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা বাউফলে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ কাজীপুরের যমুনার চরাঞ্চলে যাতায়াত সংকট, নৌকাই একমাত্র ভরসা সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত

কৃষ্ণসাগরে রুশ অবরোধ: ইউক্রেন শস্য রপ্তানি বন্ধ, বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি থমকে যাওয়ায় দেশটির কৃষি অর্থনীতি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, যা বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূর্যমুখী তেল থেকে গম—বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বড় সরবরাহকারী ইউক্রেনের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তায় ইউক্রেন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশটি বিশ্বের মোট সূর্যমুখী তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ, বার্লির ১৮ শতাংশ, ভুট্টার ১৬ শতাংশ এবং গমের ১২ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। তবে যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি কৃষিপণ্য বন্দরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার অব্যাহত অবরোধের কারণে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গত জুন মাস থেকে রুশ বাহিনী অন্তত ৫০টি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ওডেসার উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি ইউক্রেনের অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এই অবরোধ অব্যাহত থাকে, তাহলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দেড় শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

চলতি বছর ইউক্রেনে ৬ কোটি টন শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, সমুদ্রপথে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানির পূর্বাভাস ১২ শতাংশ কমিয়ে ৪ কোটি টন নির্ধারণ করা হয়েছে। সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মলদোভার মধ্য দিয়ে স্থলপথে কৃষিপণ্য পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে দানিয়ুব নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় এই বিকল্প পথও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কৃষ্ণসাগরের এই সংকট শুধু ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাশিয়ার নিজস্ব শস্য রপ্তানিও আগস্ট মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে কৃষ্ণসাগরে চলমান অস্থিরতা ইউক্রেন ও রাশিয়ার উভয় দেশের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। যদি এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ও সরবরাহে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

কৃষ্ণসাগরে রুশ অবরোধ: ইউক্রেন শস্য রপ্তানি বন্ধ, বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট

আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের শঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি থমকে যাওয়ায় দেশটির কৃষি অর্থনীতি ও জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে, যা বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূর্যমুখী তেল থেকে গম—বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বড় সরবরাহকারী ইউক্রেনের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তায় ইউক্রেন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। দেশটি বিশ্বের মোট সূর্যমুখী তেলের প্রায় ৫০ শতাংশ, বার্লির ১৮ শতাংশ, ভুট্টার ১৬ শতাংশ এবং গমের ১২ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। তবে যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে দেশটির ৯০ শতাংশের বেশি কৃষিপণ্য বন্দরে আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার অব্যাহত অবরোধের কারণে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। গত জুন মাস থেকে রুশ বাহিনী অন্তত ৫০টি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে ওডেসার উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি ইউক্রেনের অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি এই অবরোধ অব্যাহত থাকে, তাহলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইউক্রেনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দেড় শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

চলতি বছর ইউক্রেনে ৬ কোটি টন শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, সমুদ্রপথে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানির পূর্বাভাস ১২ শতাংশ কমিয়ে ৪ কোটি টন নির্ধারণ করা হয়েছে। সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে পোল্যান্ড, রোমানিয়া ও মলদোভার মধ্য দিয়ে স্থলপথে কৃষিপণ্য পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে দানিয়ুব নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় এই বিকল্প পথও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কৃষ্ণসাগরের এই সংকট শুধু ইউক্রেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাশিয়ার নিজস্ব শস্য রপ্তানিও আগস্ট মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

সব মিলিয়ে কৃষ্ণসাগরে চলমান অস্থিরতা ইউক্রেন ও রাশিয়ার উভয় দেশের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। যদি এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ও সরবরাহে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে উঠবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor