রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের আগে নিজের স্বপ্নের কথা জানালেন মির্জা ফখরুল
- আপডেট সময় : ০২:১৯:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগে এক আবেগঘন টেলিফোন সংলাপে নিজের স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চান যেখানে খেটে খাওয়া ও শ্রমজীবী মানুষ নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এই জনকল্যাণমুখী গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দেশবাসী, গণমাধ্যম এবং সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি বিশেষভাবে তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, "আজ এ দিনে যাকে আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, আমার মন কাঁদে, তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই মহিয়সী নারী নেত্রী এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, স্নেহ পেয়েছি। আজকে আমার ক্ষণে ক্ষণে তার কথা স্মরণে আসে, আমার আবেগকে স্পর্শ করে, শিহরণ জাগায়।"
বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল প্রথমে ভাসানী ন্যাপের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে তিনি দল ও সরকারের সকল দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ। তবে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত। এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে রয়েছেন ২৪৯ জন সংসদ সদস্য এবং নির্বাচনি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। মির্জা ফখরুল জানান, দুপুর ২টায় তিনি নিজেই ভোট দিতে সংসদে যাবেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পরই মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়ে যাবে। বিদায়ের আগে বুধবার তিনি বিএনপির সংসদীয় দলের শেষ সভায় অংশ নেন। গত কয়েকদিন ধরেই হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বরে তার সরকারি বাসভবনে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা গেছে, যাদের কাছ থেকে তিনি বিদায় নিয়ে দোয়া চেয়েছেন।





























