ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে: এসআরবি ডিজি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের অনীহাই বড় বাধা: ক্রেমলিন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও কমিটি গঠন স্থগিত লালমোহনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতামূলক প্রচারণা যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে গ্রেপ্তার ৫ শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা পাঁচদিনের ছুটি, শনিবার খোলা ব্যাংক সরকারি বাসা বরাদ্দ এখন অনলাইনে, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ সৌদি আরবের অধিকাংশ আকাশসীমা ও বিমানবন্দর ‘অনিরাপদ’: হুথি মুখপাত্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত সাজেক যুক্তরাষ্ট্রে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ

সংসার ভাঙলে খুশি হয় শয়তান, শান্তি রক্ষায় প্রয়োজন ধৈর্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামে পরিবারকে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভরসার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি সুন্দর ও সুদৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং ধৈর্যের বিকল্প নেই। হাদিস অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে এবং সংসার ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি খুশি হয় শয়তান। তাই পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে ইসলামে সবুর ও সহনশীলতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় ছোটখাটো ভুলত্রুটি নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন ভালোবাসার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন একে অপরের খুঁত খোঁজার প্রবণতা বেড়ে যায়। স্বামী যদি সর্বদা স্ত্রীর ভুল ধরার অপেক্ষায় থাকে কিংবা স্ত্রী যদি স্বামীকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে, তবে তা শয়তানের উদ্দেশ্যকেই সফল করে। অনেক সময় নিজেদের কোনো বড় সমস্যা না থাকলেও তৃতীয় কোনো পক্ষের উসকানিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। ঠান্ডা মাথায় ও ধৈর্যের সঙ্গে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে না পারার কারণেই এমনটি ঘটে থাকে।

একটি সুখী পরিবার গঠনে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। স্ত্রীর কর্তব্য হলো স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সন্তুষ্ট রাখা, আর স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর পরিবারের সবার প্রতি সদয় থাকা। দাম্পত্য জীবনে একজন রাগ করলে অন্যজনকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। একই সময়ে উভয়েই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ও ত্যাগের মানসিকতা থাকলে যেকোনো বড় বিবাদ সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

পবিত্র কোরআনে ধৈর্যশীলদের জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য ও বিশেষ সুসংবাদের কথা বলা হয়েছে। সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’

এছাড়া জীবনযুদ্ধে মানুষের পরীক্ষা ও ধৈর্যশীলদের পুরস্কার সম্পর্কে সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমি তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি শুভসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্ডি ইলাইহি রাজিউন) আমরা তো আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে পারিবারিক শান্তি বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসার ভাঙলে খুশি হয় শয়তান, শান্তি রক্ষায় প্রয়োজন ধৈর্য

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামে পরিবারকে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভরসার অন্যতম আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি সুন্দর ও সুদৃঢ় পারিবারিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার মানসিকতা এবং ধৈর্যের বিকল্প নেই। হাদিস অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলে এবং সংসার ভেঙে গেলে সবচেয়ে বেশি খুশি হয় শয়তান। তাই পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে ইসলামে সবুর ও সহনশীলতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় ছোটখাটো ভুলত্রুটি নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন ভালোবাসার সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন একে অপরের খুঁত খোঁজার প্রবণতা বেড়ে যায়। স্বামী যদি সর্বদা স্ত্রীর ভুল ধরার অপেক্ষায় থাকে কিংবা স্ত্রী যদি স্বামীকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে, তবে তা শয়তানের উদ্দেশ্যকেই সফল করে। অনেক সময় নিজেদের কোনো বড় সমস্যা না থাকলেও তৃতীয় কোনো পক্ষের উসকানিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। ঠান্ডা মাথায় ও ধৈর্যের সঙ্গে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করতে না পারার কারণেই এমনটি ঘটে থাকে।

একটি সুখী পরিবার গঠনে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েরই বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। স্ত্রীর কর্তব্য হলো স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সন্তুষ্ট রাখা, আর স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর পরিবারের সবার প্রতি সদয় থাকা। দাম্পত্য জীবনে একজন রাগ করলে অন্যজনকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। একই সময়ে উভয়েই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ও ত্যাগের মানসিকতা থাকলে যেকোনো বড় বিবাদ সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

পবিত্র কোরআনে ধৈর্যশীলদের জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য ও বিশেষ সুসংবাদের কথা বলা হয়েছে। সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’

এছাড়া জীবনযুদ্ধে মানুষের পরীক্ষা ও ধৈর্যশীলদের পুরস্কার সম্পর্কে সুরা বাকারার ১৫৫-১৫৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমি তোমাদের কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধনসম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা অবশ্যই পরীক্ষা করব। তুমি শুভসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্ডি ইলাইহি রাজিউন) আমরা তো আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ করে পারিবারিক শান্তি বজায় রাখাই ইসলামের শিক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh