কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবুর পরিবারে শোক
- আপডেট সময় : ০৯:২০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকার সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু (৩৭) নিহত হয়েছেন। দোকানের জন্য প্রসাধনসামগ্রী কিনতে গত সোমবার রাতে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। এ অগ্নিকাণ্ডে বাবুসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশির প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত আহম্মেদ বাবু সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ী এলাকার প্রয়াত আদম আলীর ছেলে। তিনি আমিনবাজারের শাহীন সুপার মার্কেটে প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা করতেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী গুলশানারা বুবলি এবং দুই সন্তান এলিনা হাসান রোজা (৮) ও সোয়াত (৫) রয়েছে।
বুধবার বিকেলে বাবুর বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আট বছর বয়সী মেয়ে রোজা বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ‘বাবা, বাবা’ বলে কাঁদছিল। বাবুর ছোট ছেলে সোয়াত পরিস্থিতির গভীরতা এখনো বুঝতে পারছে না। বাবুর স্ত্রী গুলশানারা বুবলি কাজের প্রয়োজনে বাসার বাইরে থাকায় তখনও স্বামীর মৃত্যুর খবর পাননি। স্বজনেরা আশঙ্কা করছেন তিনি এই শোক সইতে পারবেন না, তাই তাঁকে দ্রুত বাড়িতে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাবুর ব্যবসায়িক সহযোগী ও বন্ধু মো. রায়হান জানান, সোমবার যাওয়ার সময় বাবু তাঁর বান্ধবীর জন্য কিছু লাগবে কি না তা জিজ্ঞাসা করেছিলেন। রায়হান বলেন, বাবু অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন এবং সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুর মতো মিশতেন। বাবুর আরেক বন্ধু মো. ইমরান জানান, ভিসা চালু হওয়ার পর গত মাসেও তিনি মালামাল আনতে ভারতে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, এরপর আর কথা হয়নি।
ইমরান জানান, দুপুরে বাবুর আরেক বন্ধু রকির নম্বরে হাইকমিশন থেকে ফোন করে ‘বাবু খান’ নামে কাউকে চেনে কি না জানতে চাওয়া হয়। পরে ছবি পাঠালে তাঁরা বাবুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। প্রাথমিকভাবে তাঁরা ধারণা করছেন, আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন মারা গেছেন, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি। এছাড়া আহত ছয়জন বাংলাদেশি প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।



























