ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭ যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ৩.১%, এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২১.৩ শতাংশ আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে বাংলাদেশকে চুল টেনে ৪ ম্যাচ নিষিদ্ধ ভিনিসিয়ুস, খেলা হবে না এল ক্লাসিকো

বিপদে পড়লে জীবনের মূল্য ও সীমাবদ্ধতা অনুভব করা যায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক রাজা তার প্রিয় কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। নৌকায় রাজার সঙ্গে অন্যান্য যাত্রীদের পাশাপাশি একজন দার্শনিকও ছিলেন। ভ্রমণের এক পর্যায়ে কুকুরটি অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং নৌকায় ক্রমাগত লাফালাফি শুরু করে। এই আচরণে নৌকার মাঝি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে কুকুরের এই অস্বাভাবিক নড়াচড়ায় নৌকাটি যাত্রীদের নিয়ে ডুবে যেতে পারে। রাজা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও কুকুরটি তার স্বভাবজাত চঞ্চলতায় স্থির হচ্ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে নৌকায় থাকা দার্শনিক এগিয়ে আসেন এবং রাজাকে প্রস্তাব দেন যে, তিনি কুকুরটিকে একটি বিড়ালে পরিণত করতে পারেন। রাজা তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান। এরপর দার্শনিক দুই জন যাত্রীর সহায়তায় কুকুরটিকে নদীতে ফেলে দেন। পানিতে পড়ে কুকুরটি হাঁসফাঁস করতে থাকে এবং ভাসমান নৌকাটিকে আঁকড়ে ধরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকে। কিছু সময় পর দার্শনিক কুকুরটিকে পুনরায় নৌকায় টেনে তোলেন।

নৌকায় ওঠার পর কুকুরটি আর আগের মতো চঞ্চলতা দেখাল না, বরং চুপচাপ একটি কোণায় গিয়ে বসে রইল। তার এই অস্বাভাবিক শান্ত আচরণ দেখে রাজা বিস্মিত হয়ে দার্শনিককে জিজ্ঞেস করেন, কুকুরটি কেন এখন পোষা ছাগলের মতো শান্ত হয়ে বসে আছে। উত্তরে দার্শনিক বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে সমস্যায় না পড়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের সমস্যা বুঝতে রাজি নয়। দার্শনিক আরও ব্যাখ্যা করেন যে, জলের ক্ষমতা, নৌকার উপযোগিতা এবং নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করার পরই কুকুরটি চুপ করে বসে গেল। এই গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি হলো, মানুষও ঠিক একইভাবে অহংকার ও দাম্ভিকতার কারণে অন্যের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে; যখন তারা নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে, ঠিক তখনই তারা চুপসে যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিপদে পড়লে জীবনের মূল্য ও সীমাবদ্ধতা অনুভব করা যায়

আপডেট সময় : ১২:০৪:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

এক রাজা তার প্রিয় কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে নৌকায় ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। নৌকায় রাজার সঙ্গে অন্যান্য যাত্রীদের পাশাপাশি একজন দার্শনিকও ছিলেন। ভ্রমণের এক পর্যায়ে কুকুরটি অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং নৌকায় ক্রমাগত লাফালাফি শুরু করে। এই আচরণে নৌকার মাঝি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন, কারণ তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে কুকুরের এই অস্বাভাবিক নড়াচড়ায় নৌকাটি যাত্রীদের নিয়ে ডুবে যেতে পারে। রাজা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও কুকুরটি তার স্বভাবজাত চঞ্চলতায় স্থির হচ্ছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে নৌকায় থাকা দার্শনিক এগিয়ে আসেন এবং রাজাকে প্রস্তাব দেন যে, তিনি কুকুরটিকে একটি বিড়ালে পরিণত করতে পারেন। রাজা তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান। এরপর দার্শনিক দুই জন যাত্রীর সহায়তায় কুকুরটিকে নদীতে ফেলে দেন। পানিতে পড়ে কুকুরটি হাঁসফাঁস করতে থাকে এবং ভাসমান নৌকাটিকে আঁকড়ে ধরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকে। কিছু সময় পর দার্শনিক কুকুরটিকে পুনরায় নৌকায় টেনে তোলেন।

নৌকায় ওঠার পর কুকুরটি আর আগের মতো চঞ্চলতা দেখাল না, বরং চুপচাপ একটি কোণায় গিয়ে বসে রইল। তার এই অস্বাভাবিক শান্ত আচরণ দেখে রাজা বিস্মিত হয়ে দার্শনিককে জিজ্ঞেস করেন, কুকুরটি কেন এখন পোষা ছাগলের মতো শান্ত হয়ে বসে আছে। উত্তরে দার্শনিক বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজে সমস্যায় না পড়ে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের সমস্যা বুঝতে রাজি নয়। দার্শনিক আরও ব্যাখ্যা করেন যে, জলের ক্ষমতা, নৌকার উপযোগিতা এবং নিজের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করার পরই কুকুরটি চুপ করে বসে গেল। এই গল্পের শিক্ষণীয় দিকটি হলো, মানুষও ঠিক একইভাবে অহংকার ও দাম্ভিকতার কারণে অন্যের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে; যখন তারা নিজেদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারে, ঠিক তখনই তারা চুপসে যায়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh