নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়ায় ইউএনও কার্যালয়ে হামলা: ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার জের ধরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিজ নিজ থানায় এই এজাহার দুটি দাখিল করেন।
লালপুর উপজেলায় দায়ের করা এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট দুপুরে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে কয়েকজন সরকারদলীয় নেতাকর্মী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হন। একপর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। বিক্ষোভকারীরা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে মারধর করে তাঁর শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন এবং উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেন। এছাড়া কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র তছনছ এবং সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাঁর শরীর ও কক্ষে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। চলে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এই ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাগাতিপাড়া উপজেলার এজাহারে বলা হয়েছে, একই দিন অর্থাৎ ১২ আগস্ট সকালে নিয়োগের ফলাফল বাতিলের দাবিতে শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করেন এবং ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা ফুলের টব ও একটি স্টিলের গেট ভাঙচুর করেন। বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার কপালে গিয়ে আঘাত করে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারীকে মারধর করে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে আলোচনার জন্য কয়েকজনকে ইউএনওর কক্ষে ঢোকার অনুমতি দিলে তাঁরা সেখানে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ইউএনওর টেবিলে আঘাত করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। এই ঘটনায় বাগাতিপাড়ায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এই হামলার ঘটনাগুলো জানিয়ে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি, নাটোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এবং বাগাতিপাড়া থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক এজাহার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে।


























