জুলাই গণঅভ্যুত্থান: এখনো ৬৯০ কারাবন্দি পলাতক
- আপডেট সময় : ০২:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এখনো ৬৯০ জন পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানের সময় মোট ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পলাতক বন্দিদের মধ্যে ১৬৬ জনের কোনো তথ্য কারা অধিদপ্তরের কাছে নেই, যারা সবাই নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়েছেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় গাজীপুর ও নরসিংদীসহ এক ডজনেরও বেশি কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গি ছিলেন। কারা মহাপরিদর্শক জানান, সর্বশেষ জুয়েল নামে একজনকে গ্রেপ্তারের পর বর্তমানে দুজন জঙ্গি এখনো পলাতক রয়েছেন।
কারাগারগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, দেশের ৬০টি জেলা কারাগার এবং ১৫টি সেন্ট্রাল কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার হলেও বর্তমানে বন্দির সংখ্যা ৯৮ হাজার। তিনি আরও জানান, কারাগারে মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, তবে গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে এবং এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হওয়া দলটির নেতাকর্মীদের কারাগারে মৃত্যু এবং নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, তাদের কোনো গাফিলতি নেই। তিনি জানান, বর্তমানে ১২২ জন বন্দি কারাগারের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া ২০২৫ সালে ১৮৭ জন এবং চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কারাগারগুলোতে চিকিৎসকের ঘাটতির কথাও স্বীকার করেন।
কারাগারে থাকা বিদেশি বন্দিদের বিষয়ে মহাপরিদর্শক জানান, বর্তমানে ৩৭৯ জন বিদেশি বন্দি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭০ জনের সাজা শেষ হলেও দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। এম্বাসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গত দুই বছরে বিদেশি বন্দিদের ১৭টি মৃতদেহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ৩টি মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত আছে। কোনো পরিবার মরদেহ নিতে না এলে ডিএনএ সংরক্ষণ করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।




























