গাজায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের চিকিৎসা সেবা চরম সংকটে
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের চাপে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম। এর ফলে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীরা সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে অনেক রোগীর রোগ শনাক্ত হচ্ছে অনেক দেরিতে। চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছানোর সময় অধিকাংশ রোগীর ক্যানসার ইতিমধ্যেই জটিল বা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকেই গাজায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ সেবার ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যামোগ্রাফি মেশিনগুলো নিয়মিত অচল হয়ে পড়ছে, যার যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার চিকিৎসক হালা আল-বুহাইসি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যসেবায় নারীদের স্বাভাবিক প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, যা তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ক্যানসার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং প্রতিবছর সেখানে দুই হাজারের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হন। নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার অন্যতম সাধারণ রোগ হলেও, যুদ্ধের কারণে দ্রুত রোগ শনাক্ত ও সময়মতো চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ক্যানসার রোগীরা কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোগীদের এই অসহনীয় দুর্ভোগের পেছনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং চিকিৎসাকর্মীর ঘাটতি বড় ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা কেবল আহত বা নিহতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত নারীদের জীবন বাঁচানোর পথও রুদ্ধ করে দিয়েছে। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে গাজার এই স্বাস্থ্য সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।





























