ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আর বাড়াতে আগ্রহী নন ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র সাটুরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান নারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা দক্ষিণ চীন সাগরে ৪ দিন বিদ্যুৎহীন ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বেনফোল্ড মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি, ফিরে পাওয়ার আকুতি ডারউইন টেস্টে অসামান্য হাসান মাহমুদ, মনে রাখার মতো এক জয় ঐতিহাসিক জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানাল মন্ত্রিসভা

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছয় মাসে নিহত ৩৯ নেতাকর্মী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে দলটির অন্তত ৩৯ জন নেতাকর্মী নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই ছয় মাসে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, কমিটিতে পদ-পদবি দখল, হাট-বাজার ও বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ এবং টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে এই সংঘাতগুলো বাড়ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তিগত বিরোধ ও উপদলীয় গ্রুপিংয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অন্য জেলা থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে খুনের ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৩৯ নেতাকর্মী খুন হন। এসব ঘটনার অধিকাংশ ঘটেছে ঢাকা, ঝিনাইদহ, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায়। এই সময়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ২৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ২১ জন, যুবদলের আট জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের তিনজন, কৃষক দলের দুজন, ছাত্রদলের দুজন, শ্রমিক দলের দুজন এবং তাঁতীদলের একজন রয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক দলীয় কোন্দল ও নির্বাচনি সহিংসতায় ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৩৭ জন, জামায়াতের ছয়জন এবং অন্যান্য দলের ১১ জন রয়েছেন। এই ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনার ৬৭৩টি বা ৮১ শতাংশই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে। জুলাই মাসে সারা দেশে ৪৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দলে দুজন নিহত ও ১৬৪ জনের বেশি আহত হন। এর আগের মাস জুনে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছিলেন। জুলাইয়ের ৪৫টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ১৪টি ঘটনায় ৪৮ জন আহত ও দুজন নিহত হন। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের ছয়টি সংঘর্ষে ৪৪ জন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের তিনটি সংঘর্ষে ১৩ জন, বিএনপি-এনসিপির পাঁচটি সংঘর্ষে ৩৮ জন এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপির ১৪টি সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হন। এছাড়া নানা দলের মধ্যে তিনটি ঘটনায় তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন।

বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১০ মার্চ সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী সজিব চৌধুরী, ২৪ জুলাই কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী, ৮ জুন মৌচাকের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন, ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া, ৯ জুন বাগেরহাটের ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল, ১৩ জুন রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী, ১২ জুন খুলনায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম এবং ২৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কর্মী রাজু আহম্মেদ অন্যতম। এছাড়া ১ জুলাই রাজধানীর আদাবরে সালিশ বৈঠকের সময় হামলায় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশা নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, সালিশের ঘটনা সামনে থাকলেও এর পেছনে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (জনসংযোগ ও মালটিমিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন জানান, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধের ঘটনায় কে কোন দলের তা দেখা হয় না, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক জানান, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, পদ-পদবি ও দখলবাণিজ্যের জেরে এই সহিংসতা ঘটছে, যা রাজনীতি সম্পর্কে সমাজে বিরূপ ধারণা তৈরি করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছয় মাসে নিহত ৩৯ নেতাকর্মী

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে দলটির অন্তত ৩৯ জন নেতাকর্মী নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই ছয় মাসে মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য বলছে, কমিটিতে পদ-পদবি দখল, হাট-বাজার ও বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ এবং টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে এই সংঘাতগুলো বাড়ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তিগত বিরোধ ও উপদলীয় গ্রুপিংয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অন্য জেলা থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে খুনের ঘটনাও ঘটানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ৩৯ নেতাকর্মী খুন হন। এসব ঘটনার অধিকাংশ ঘটেছে ঢাকা, ঝিনাইদহ, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য জেলায়। এই সময়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ২৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ২১ জন, যুবদলের আট জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের তিনজন, কৃষক দলের দুজন, ছাত্রদলের দুজন, শ্রমিক দলের দুজন এবং তাঁতীদলের একজন রয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে রাজনৈতিক দলীয় কোন্দল ও নির্বাচনি সহিংসতায় ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ৩৭ জন, জামায়াতের ছয়জন এবং অন্যান্য দলের ১১ জন রয়েছেন। এই ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনার ৬৭৩টি বা ৮১ শতাংশই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দল ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে। জুলাই মাসে সারা দেশে ৪৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দলে দুজন নিহত ও ১৬৪ জনের বেশি আহত হন। এর আগের মাস জুনে ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ৩৪৬ জন আহত হয়েছিলেন। জুলাইয়ের ৪৫টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ১৪টি ঘটনায় ৪৮ জন আহত ও দুজন নিহত হন। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতের ছয়টি সংঘর্ষে ৪৪ জন, বিএনপি-আওয়ামী লীগের তিনটি সংঘর্ষে ১৩ জন, বিএনপি-এনসিপির পাঁচটি সংঘর্ষে ৩৮ জন এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপির ১৪টি সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হন। এছাড়া নানা দলের মধ্যে তিনটি ঘটনায় তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন।

বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১০ মার্চ সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী সজিব চৌধুরী, ২৪ জুলাই কাফরুলে যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী, ৮ জুন মৌচাকের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন, ২ জুন ময়মনসিংহে রানা মিয়া, ৯ জুন বাগেরহাটের ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়ল, ১৩ জুন রাঙ্গুনিয়ায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী, ১২ জুন খুলনায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম এবং ২৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জে বিএনপি কর্মী রাজু আহম্মেদ অন্যতম। এছাড়া ১ জুলাই রাজধানীর আদাবরে সালিশ বৈঠকের সময় হামলায় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশা নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, সালিশের ঘটনা সামনে থাকলেও এর পেছনে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ ছিল।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (জনসংযোগ ও মালটিমিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন জানান, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধের ঘটনায় কে কোন দলের তা দেখা হয় না, আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক জানান, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, পদ-পদবি ও দখলবাণিজ্যের জেরে এই সহিংসতা ঘটছে, যা রাজনীতি সম্পর্কে সমাজে বিরূপ ধারণা তৈরি করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh