ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি ইরানের সঙ্গে সমঝোতা আর বাড়াতে আগ্রহী নন ট্রাম্প হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র সাটুরিয়ায় জমি নিয়ে বিরোধে সাবেক ইউপি সদস্যের বাড়ি ভাঙচুর দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান নারী এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা দক্ষিণ চীন সাগরে ৪ দিন বিদ্যুৎহীন ছিল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বেনফোল্ড মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি, ফিরে পাওয়ার আকুতি ডারউইন টেস্টে অসামান্য হাসান মাহমুদ, মনে রাখার মতো এক জয় ঐতিহাসিক জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানাল মন্ত্রিসভা

মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি, ফিরে পাওয়ার আকুতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মায়ের অজান্তে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশুকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মা তাছলিমা আক্তার তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর এবং বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সরেরপাড় এলাকায়। তাছলিমা আক্তার সরেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে এবং মোস্তফাপুর গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী। ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের সংসারে এই শিশুটি তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।

তাছলিমা আক্তারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে মজিদ কলেজ মাঠ এলাকায় তাকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় ওই সময় তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন যে তার কোলের সন্তানটি আর নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে তাছলিমা বলেন, তিনি কোনো টাকা চান না, শুধু তার সন্তানকে সুস্থভাবে বুকে ফিরিয়ে পেতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, তার খালা চক্রান্ত করে শিশুটিকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির খালা ছেনোয়ারা বেগম। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাছলিমার মামা বাবুল মিয়া বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। অন্যদিকে বাবুল মিয়া দাবি করেন, তিনি কেবল একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছেন কিন্তু শিশুটিকে কারা নিয়ে গেছে বা কোথায় আছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার দাবি, শিশুটির বাবা আল-আমিন বিষয়টি জানেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনার বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে সে বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী মা তার সন্তানের অবস্থান নিশ্চিত করে নিরাপদে উদ্ধারের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মুরাদনগরে মায়ের অজান্তে ৫০ হাজার টাকায় শিশু বিক্রি, ফিরে পাওয়ার আকুতি

আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মায়ের অজান্তে মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছয় মাস বয়সী এক শিশুকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মা তাছলিমা আক্তার তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ঘটনাটি ঘটেছে মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর এবং বাঙ্গরা বাজার থানার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের সরেরপাড় এলাকায়। তাছলিমা আক্তার সরেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে এবং মোস্তফাপুর গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী। ছয় মেয়ে ও দুই ছেলের সংসারে এই শিশুটি তাদের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।

তাছলিমা আক্তারের অভিযোগ, গত ১৮ জুলাই বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে মজিদ কলেজ মাঠ এলাকায় তাকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তিনি জানান, শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় ওই সময় তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন যে তার কোলের সন্তানটি আর নেই। কান্নায় ভেঙে পড়ে তাছলিমা বলেন, তিনি কোনো টাকা চান না, শুধু তার সন্তানকে সুস্থভাবে বুকে ফিরিয়ে পেতে চান। তিনি অভিযোগ করেন, তার খালা চক্রান্ত করে শিশুটিকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির খালা ছেনোয়ারা বেগম। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাছলিমার মামা বাবুল মিয়া বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। অন্যদিকে বাবুল মিয়া দাবি করেন, তিনি কেবল একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছেন কিন্তু শিশুটিকে কারা নিয়ে গেছে বা কোথায় আছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তার দাবি, শিশুটির বাবা আল-আমিন বিষয়টি জানেন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ঘটনার বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, শিশুটি বর্তমানে কোথায় আছে সে বিষয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী মা তার সন্তানের অবস্থান নিশ্চিত করে নিরাপদে উদ্ধারের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh