হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপক হ্রাস: সপ্তাহান্তে মাত্র পাঁচটি জাহাজ
- আপডেট সময় : ০২:১৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সোমবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনাও থমকে গেছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের দেওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজ অতিক্রম করেছে। এর পরের দিন রোববার কোনো জাহাজই এই পথ ব্যবহারের জন্য নিবন্ধন করেনি। তুলনায়, এর আগের সপ্তাহান্তে মোট ৩১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছিল।
কেপলার জানিয়েছে, শনিবার যে পাঁচটি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছিল, তার মধ্যে একটি বড় আকারের জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার ছিল। তবে ট্যাংকারটি খালি ছিল এবং সেটির অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রাখা হয়েছিল। একই দিনে ভারতের পতাকাবাহী একটি বড় আকারের প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ ইরানের বেঁধে দেওয়া রুট অনুসরণ করে প্রণালিটি পাড়ি দিয়েছে। এছাড়া ইরানের জ্বালানি তেলবোঝাই একটি ছোট ট্যাংকারও হরমুজ অতিক্রম করেছে।
গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায় যে, আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির তিনটি জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের সময় আক্রান্ত হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বজায় রাখতে পারে। ইরান যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করত।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। ইরান হরমুজ প্রণালিকে বিশ্ব অর্থনীতি অচল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং জলপথটি বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রাখায় দেশটির অর্থনীতি আরও সংকটের মুখে পড়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে গত ২০ জুলাই বাব আল-মানদেব প্রণালিতেও নৌ অবরোধ আরোপ করেছে ইয়েমেনের হুতিরা। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে ৪৯টি পণ্যবাহী জাহাজ বাব আল-মানদেব পাড়ি দিয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৫৫টি। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহণের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।



























