ডারউইন টেস্টে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০২:০০:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎ করেই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তিনশ রানের মাইলফলক পার করার পর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে সফরকারীরা। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের দ্রুত বিদায়ে ৮৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩১৬ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ বর্তমানে ১১৮ রানে এগিয়ে আছে।
দ্বিতীয় নতুন বল হাতে নেওয়ার পর জশ হ্যাজলউডের সুইংয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১২৬ বলে ৮৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলা শান্ত অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া একটি বলে ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। শান্তর বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৯৭ রান।
এরপর লিটন দাসকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। ৮৩তম ওভারের প্রথম বলে তিন রান নিয়ে বাংলাদেশকে তিনশর ঘরে পৌঁছে দেন মুশফিক। তবে পরের ওভারেই ভাঙে জুটি। মিচেল স্টার্কের ১৪৩ কিলোমিটার গতির বল শরীর থেকে দূরে থাকায় ড্রাইভ করতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন লিটন। ১২ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। ৩০৬ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে আউটসুইং করা বলটি খেলতে গিয়ে দ্বিধায় থাকা মুশফিকও দ্বিতীয় স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৫৫ বলে ৩৬ রান করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
তবে দিনের বড় গল্প এখনো বাংলাদেশের দাপটই। অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর সফরকারীরা ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও একটি ছক্কা। নাথান লায়নের বলে লং অফে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামে তার ইনিংস। তানজিদের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ২৩১ রান। এর আগে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তানজিদের জুটি থেকে আসে ৯৩ রান। তার আগে মুমিনুল হক ৪৯ রান করে জশ হ্যাজলউডের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। মুমিনুল ও তানজিদের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১০২ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের দাপটের আগে বল হাতে অসাধারণ ছিলেন দলের পেসাররা। হাসান মাহমুদ ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। নিখুঁত লাইন-লেন্থ, সিম মুভমেন্ট ও বাড়তি বাউন্স কাজে লাগিয়ে তারা অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের চাপে রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭১ রান করলেও অন্য কোনো ব্যাটার ২৫ রানের গণ্ডি পার করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। এখন ক্রিজে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের হাতে এখনো ১১৮ রানের লিড থাকায় শেষ চার উইকেটের ব্যাটিং পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হবে।





























