ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তদন্তের মধ্যেই নেপালে ফিরলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোরগঞ্জে সড়ক সংস্কারে তোড়জোড় সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে ম্যাক্স গ্রুপ সেপ্টেম্বর থেকে মেট্রোরেলের সময় বাড়ছে, শেষ ট্রেন রাত ১১টায় সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য পঞ্চগড়ে গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসায় ক্রিকেট বিশ্ব মাদারীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে মশাল মিছিল জেন-জি থেকে প্রবীণদের শেখার আছে অনেক কিছু মাদক ও জুয়ার প্রতিবাদ করায় কলেজশিক্ষক লাঞ্ছিত, গ্রেপ্তার ১

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, নিশ্চিত হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁর ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে গণ্য করা হচ্ছে। মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তিনি দলের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট তিনি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবনের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি ঢাকা কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে শিক্ষকতায় ফিরে এসে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।

১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের পৈতৃক নিবাস ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপি সরকারের ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগম একটি বিমা কোম্পানিতে কর্মরত। তাঁদের দুই মেয়ে শামারুহ ও সাফারুহ উভয়েই শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মির্জা ফখরুলের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও তাঁর বন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের গতি শ্লথ হওয়া নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের মুজিবনগর প্রবাসী সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল, নিশ্চিত হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দলটির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়েছে। সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁর ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে গণ্য করা হচ্ছে। মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তিনি দলের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট তিনি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবনের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি ঢাকা কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে শিক্ষকতায় ফিরে এসে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে কর্মরত ছিলেন।

১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরে যায়। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের পৈতৃক নিবাস ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপি সরকারের ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে মির্জা ফখরুল বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগম একটি বিমা কোম্পানিতে কর্মরত। তাঁদের দুই মেয়ে শামারুহ ও সাফারুহ উভয়েই শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মির্জা ফখরুলের এই মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও তাঁর বন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি স্থানীয় উন্নয়নের গতি শ্লথ হওয়া নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা ১৯৭১ সালের মুজিবনগর প্রবাসী সরকারে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo