ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নামফলকে নিজের নাম দেখে উদ্বোধন না করেই ফিরলেন এমপি হাসনাত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘে রাশিয়ার কড়া বার্তা যশোরের চৌগাছায় পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের মামা-ভাগিনার মৃত্যু বাংলা কিউআরে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ, বিএনপি নেতা জড়িত ঢাকার ৩৫ এলাকায় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি, অক্টোবরে বাড়তে পারে প্রকোপ জানুয়ারিতে সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রাজপুত্রের দেহাবশেষ পাঠানোর নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৩ অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই, জানাল বোর্ড অব পিস

দিনাজপুরে আনার চাষে দুই বন্ধুর বাজিমাত, প্রথম বছরেই ৩০ লাখ টাকার বিক্রির আশা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দিনাজপুরের মাটিতে বিদেশি ফল আনার চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা। সদর উপজেলার রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় গড়ে ওঠা দেশের সর্ববৃহৎ এই আনারের বাগান থেকে ইতিমধ্যে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় উদ্যোক্তারা আশা করছেন, প্রথম বছরেই অন্তত ৩০ লাখ টাকার আনার বিক্রি হবে। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছর বিক্রির পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

সাধারণত প্রতি বছর নেপাল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত টন আনার বা বেদানা বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। তবে আমদানিনির্ভর এই পুষ্টিকর ফল এখন দেশেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। দিনাজপুরের রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় মূল সড়কের পাশেই দেখা মিলবে ‘গ্রিন লিফ এগ্রো ফার্ম’ নামের এই বিশাল আনার বাগানের। চার বছর আগে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি কৃষি খামারের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই বাগানটি গড়ে তোলেন কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম ও তার বন্ধু মনিরুজ্জামান।

সাড়ে তিন একর জমিতে গড়ে তোলা এই বাগানে বর্তমানে ১ হাজার ১০০টি আনার গাছ রয়েছে। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে না থাকলেও দুই বন্ধুর অক্লান্ত পরিশ্রমে বাগানটি পূর্ণতা পেয়েছে। বাগান মালিকদের দাবি, দেশীয় এই আনারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রং ও আকার আমদানিকৃত বিদেশি আনারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। চারা রোপণের চার বছর পর এবারই প্রথম গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত আনার ধরেছে।

গত আগস্ট মাস থেকে বাগান থেকে আনার সংগ্রহ শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। আকর্ষণীয় আকার, রং ও চমৎকার স্বাদের কারণে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম জানান, বাগান থেকে বড় আকারের আনার পাইকারি দরে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর তুলনামূলক ছোট আকারের আনার বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে প্রতিটি আনারের সর্বনিম্ন গড় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬০ টাকা। এবার তাদের বাগানে প্রায় ৫০ হাজার ফল এসেছে, যা থেকে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা।

নাদিম আরও জানান, গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর পরিধি ও ফলন দুই-ই বাড়বে। প্রথম বছরের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী বছর দ্বিগুণ ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা। কোনো বড় ধরনের রোগবালাই না হলে একেকটি গাছ থেকে টানা ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা ও বাগান মালিকদের মতে, বাংলাদেশে এত বড় আনারের বাগান আর দ্বিতীয়টি নেই।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুরের মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই আনারের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিদেশি ফল চাষে সফল হতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

দিনাজপুরে আনার চাষে দুই বন্ধুর বাজিমাত, প্রথম বছরেই ৩০ লাখ টাকার বিক্রির আশা

আপডেট সময় : ০৩:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুরের মাটিতে বিদেশি ফল আনার চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা। সদর উপজেলার রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় গড়ে ওঠা দেশের সর্ববৃহৎ এই আনারের বাগান থেকে ইতিমধ্যে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় উদ্যোক্তারা আশা করছেন, প্রথম বছরেই অন্তত ৩০ লাখ টাকার আনার বিক্রি হবে। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছর বিক্রির পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

সাধারণত প্রতি বছর নেপাল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত টন আনার বা বেদানা বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। তবে আমদানিনির্ভর এই পুষ্টিকর ফল এখন দেশেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। দিনাজপুরের রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় মূল সড়কের পাশেই দেখা মিলবে ‘গ্রিন লিফ এগ্রো ফার্ম’ নামের এই বিশাল আনার বাগানের। চার বছর আগে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি কৃষি খামারের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই বাগানটি গড়ে তোলেন কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম ও তার বন্ধু মনিরুজ্জামান।

সাড়ে তিন একর জমিতে গড়ে তোলা এই বাগানে বর্তমানে ১ হাজার ১০০টি আনার গাছ রয়েছে। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে না থাকলেও দুই বন্ধুর অক্লান্ত পরিশ্রমে বাগানটি পূর্ণতা পেয়েছে। বাগান মালিকদের দাবি, দেশীয় এই আনারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রং ও আকার আমদানিকৃত বিদেশি আনারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। চারা রোপণের চার বছর পর এবারই প্রথম গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত আনার ধরেছে।

গত আগস্ট মাস থেকে বাগান থেকে আনার সংগ্রহ শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। আকর্ষণীয় আকার, রং ও চমৎকার স্বাদের কারণে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম জানান, বাগান থেকে বড় আকারের আনার পাইকারি দরে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর তুলনামূলক ছোট আকারের আনার বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে প্রতিটি আনারের সর্বনিম্ন গড় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬০ টাকা। এবার তাদের বাগানে প্রায় ৫০ হাজার ফল এসেছে, যা থেকে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা।

নাদিম আরও জানান, গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর পরিধি ও ফলন দুই-ই বাড়বে। প্রথম বছরের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী বছর দ্বিগুণ ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা। কোনো বড় ধরনের রোগবালাই না হলে একেকটি গাছ থেকে টানা ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা ও বাগান মালিকদের মতে, বাংলাদেশে এত বড় আনারের বাগান আর দ্বিতীয়টি নেই।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুরের মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই আনারের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিদেশি ফল চাষে সফল হতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh