
দিনাজপুরের মাটিতে বিদেশি ফল আনার চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন দুই তরুণ উদ্যোক্তা। সদর উপজেলার রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় গড়ে ওঠা দেশের সর্ববৃহৎ এই আনারের বাগান থেকে ইতিমধ্যে ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় উদ্যোক্তারা আশা করছেন, প্রথম বছরেই অন্তত ৩০ লাখ টাকার আনার বিক্রি হবে। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী বছর বিক্রির পরিমাণ ৬০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
সাধারণত প্রতি বছর নেপাল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত টন আনার বা বেদানা বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। তবে আমদানিনির্ভর এই পুষ্টিকর ফল এখন দেশেই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। দিনাজপুরের রাণীগঞ্জ বেলবাড়ী এলাকায় মূল সড়কের পাশেই দেখা মিলবে ‘গ্রিন লিফ এগ্রো ফার্ম’ নামের এই বিশাল আনার বাগানের। চার বছর আগে ভারতের মুম্বাইয়ের একটি কৃষি খামারের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই বাগানটি গড়ে তোলেন কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম ও তার বন্ধু মনিরুজ্জামান।
সাড়ে তিন একর জমিতে গড়ে তোলা এই বাগানে বর্তমানে ১ হাজার ১০০টি আনার গাছ রয়েছে। স্থানীয় মাটি ও আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে না থাকলেও দুই বন্ধুর অক্লান্ত পরিশ্রমে বাগানটি পূর্ণতা পেয়েছে। বাগান মালিকদের দাবি, দেশীয় এই আনারের স্বাদ, ঘ্রাণ, রং ও আকার আমদানিকৃত বিদেশি আনারের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। চারা রোপণের চার বছর পর এবারই প্রথম গাছে ফল এসেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ৬০টি পর্যন্ত আনার ধরেছে।
গত আগস্ট মাস থেকে বাগান থেকে আনার সংগ্রহ শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। আকর্ষণীয় আকার, রং ও চমৎকার স্বাদের কারণে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকেই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নাদিম জানান, বাগান থেকে বড় আকারের আনার পাইকারি দরে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর তুলনামূলক ছোট আকারের আনার বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে। সেই হিসেবে প্রতিটি আনারের সর্বনিম্ন গড় মূল্য দাঁড়াচ্ছে ৬০ টাকা। এবার তাদের বাগানে প্রায় ৫০ হাজার ফল এসেছে, যা থেকে কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তারা।
নাদিম আরও জানান, গাছের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এর পরিধি ও ফলন দুই-ই বাড়বে। প্রথম বছরের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী বছর দ্বিগুণ ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা। কোনো বড় ধরনের রোগবালাই না হলে একেকটি গাছ থেকে টানা ৩০ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। কৃষি কর্মকর্তা ও বাগান মালিকদের মতে, বাংলাদেশে এত বড় আনারের বাগান আর দ্বিতীয়টি নেই।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুরের মাটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই আনারের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিদেশি ফল চাষে সফল হতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২