ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দুই মাসে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা শাড়িকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন তানজিন তিশা, অভিযোগ করলেন সম্মানহানির ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণই মূল লক্ষ্য: মমতা ভারতে ভিনিসিয়ুসের প্রথম সফর: গোয়ায় খেলেছিলেন অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট ইরান সংঘাত দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমবে: ট্রাম্প গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত: জয়সোয়াল সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থা ঢাকতে বিশৃঙ্খলা করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার মাধবদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা জরিমানা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় দাদিকে হত্যার দায়ে নাতির যাবজ্জীবন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



খুলনায় দাদি নুর জাহান ওরফে খানো বিবিকে হত্যার দায়ে নাতি মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফানকে (২১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মাজাহারুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. কামরুল মোড়লের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, পারিবারিক সম্পত্তি ইরফানের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তার মা ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নুর জাহানের ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই বিরোধ হতো। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। এছাড়া ইরফান মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকা না পেলে প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে মাদকের টাকা জোগাড় করতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন ইরফান। এ সময় দাদি নুর জাহান তাকে বাধা দেন। পরে ওই দিন দুপুরে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠলে নুর জাহান তাকে আবারও বাধা দেন। এরই জেরে দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে পালিয়ে যান ইরফান। এতে ঘটনাস্থলেই নুর জাহানের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিনই আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মোশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

খুলনায় দাদিকে হত্যার দায়ে নাতির যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

খুলনায় দাদি নুর জাহান ওরফে খানো বিবিকে হত্যার দায়ে নাতি মো. খলিল মোড়ল ওরফে ইরফানকে (২১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মাজাহারুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইরফান পাইকগাছা উপজেলার শ্রীকণ্ঠপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মো. কামরুল মোড়লের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি খুলনা বিএল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, পারিবারিক সম্পত্তি ইরফানের নামে লিখে দেওয়ার জন্য তার মা ফাতেমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নুর জাহানের ওপর চাপ দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই বিরোধ হতো। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। এছাড়া ইরফান মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকা না পেলে প্রায়ই দাদিকে মারধর করতেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর সকালে মাদকের টাকা জোগাড় করতে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন ইরফান। এ সময় দাদি নুর জাহান তাকে বাধা দেন। পরে ওই দিন দুপুরে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠলে নুর জাহান তাকে আবারও বাধা দেন। এরই জেরে দুপুর সাড়ে ১টার দিকে বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে ধারালো দা দিয়ে দাদিকে আঘাত করে পালিয়ে যান ইরফান। এতে ঘটনাস্থলেই নুর জাহানের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফুলি বেগম বাদী হয়ে ওই দিনই আদালতে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেবাশীষ দাশ ইরফানকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র দায়রা জজ মোশিউর রহমান চৌধুরীর আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি খুলনা বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh