ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৪১৩তম পর্ষদ সভায় বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনে পড়েছিল এমি রসমের কোহলির মাইলফলক ও গিলের সেঞ্চুরি: ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে ভারতের জয় সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কটিয়াদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল চুয়েটে ‘৫৬?’ লেখা কার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপে নানা আয়োজন চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ, সেপ্টেম্বরের ২৫ দিনে ১৩ জনের মৃত্যু বেলকুচিতে পারিবারিক কলহে গুলি, গ্রেপ্তার ২ এমপির মদতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের ঘটনায় টিআইবির গভীর উদ্বেগ সিরাজগঞ্জে অভিযাত্রী সংসদের নতুন বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: চিত্রকর্মে অনুপ্রাণিত নতুন উপন্যাস

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শিল্পকলা ও সাহিত্যের মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত নিবিড় ও প্রাচীন। এই দুটি মাধ্যম দীর্ঘকাল ধরেই একে অপরকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে আসছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রকাশিত বেশ কিছু নতুন উপন্যাসে এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। চিত্রকলা, শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম এবং শিল্পের ইতিহাসকে উপজীব্য করে সমসাময়িক লেখকেরা সৃষ্টি করেছেন অভিনব সব গল্প ও চরিত্র।

এই ধারার উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ হলো লেখক অ্যালেক্স হাইডের ‘এক্সিবিশন’। ১৯৯০-এর দশকের লন্ডনের ‘ইয়াং ব্রিটিশ আর্টিস্টস’ বা ওয়াইবিএ আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসের কাহিনী। এখানে শিল্পকর্মের মালিকানা, সৃষ্টিশীলতার মূল্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপন্যাসটি রচনার সময় হাইড নিয়মিত লন্ডনের টেট ব্রিটেনে যেতেন ব্রিটিশ শিল্পী ট্রেসি এমিনের শুরুর দিকের মনোপ্রিন্টগুলো দেখতে। সেই শিল্পকর্মগুলোর সামনে বসে লেখার সময় ধীরে ধীরে ছবির অনুভূতিগুলো তাঁর লেখার পরতে পরতে মিশে যায়।

একইভাবে শিল্পের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় রেবেকা বিরেলের ‘ভেনাস, ভেনেশিং’ উপন্যাসে। ১৯৩০-এর দশকের বার্লিনে হান্না নামের এক তরুণ ইহুদি নারী শিল্পীর জীবনকে কেন্দ্র করে এই বইটি রচিত হয়েছে। লেখক বিরেল মূলত শিল্প-ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের হারিয়ে যাওয়া ইহুদি নারী শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের অনেকেরই শিল্পকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাঁদের সম্পর্কে খুব কম তথ্যই অবশিষ্ট রয়েছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকেই তিনি তাঁর উপন্যাসের উপজীব্য করেছেন।

শিল্পকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনার এই চমৎকার প্রবণতা অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত লেখক বালজাক, জোলা এবং প্রুস্তও চিত্রকলা থেকে লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। এছাড়া ট্রেসি শেভালিয়েরের ‘গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়াররিং’ এবং ডোনা টার্টের ‘দ্য গোল্ডফিনচ’ হলো নির্দিষ্ট কোনো শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে লেখা বিশ্বখ্যাত উপন্যাসের অনন্য উদাহরণ।

বর্তমান সময়ের লেখকেরা চিত্রকলাকে কেবল গল্পের একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না; যা তাঁদের সৃষ্টির সূচনা ও কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের কাছে একটি ছবি কখনো নতুন চরিত্রের জন্ম দেয়, কখনো ইতিহাসকে নতুন আলোয় দেখার সুযোগ করে দেয়, আবার কখনো লেখার গভীরে নতুন সব প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মেলবন্ধন: চিত্রকর্মে অনুপ্রাণিত নতুন উপন্যাস

আপডেট সময় : ১১:২০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

শিল্পকলা ও সাহিত্যের মধ্যকার সম্পর্কটি অত্যন্ত নিবিড় ও প্রাচীন। এই দুটি মাধ্যম দীর্ঘকাল ধরেই একে অপরকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে আসছে। চলতি গ্রীষ্মে প্রকাশিত বেশ কিছু নতুন উপন্যাসে এই মেলবন্ধন আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। চিত্রকলা, শিল্পীদের জীবনসংগ্রাম এবং শিল্পের ইতিহাসকে উপজীব্য করে সমসাময়িক লেখকেরা সৃষ্টি করেছেন অভিনব সব গল্প ও চরিত্র।

এই ধারার উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি উদাহরণ হলো লেখক অ্যালেক্স হাইডের ‘এক্সিবিশন’। ১৯৯০-এর দশকের লন্ডনের ‘ইয়াং ব্রিটিশ আর্টিস্টস’ বা ওয়াইবিএ আন্দোলনের পটভূমিতে গড়ে উঠেছে এই উপন্যাসের কাহিনী। এখানে শিল্পকর্মের মালিকানা, সৃষ্টিশীলতার মূল্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপন্যাসটি রচনার সময় হাইড নিয়মিত লন্ডনের টেট ব্রিটেনে যেতেন ব্রিটিশ শিল্পী ট্রেসি এমিনের শুরুর দিকের মনোপ্রিন্টগুলো দেখতে। সেই শিল্পকর্মগুলোর সামনে বসে লেখার সময় ধীরে ধীরে ছবির অনুভূতিগুলো তাঁর লেখার পরতে পরতে মিশে যায়।

একইভাবে শিল্পের গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায় রেবেকা বিরেলের ‘ভেনাস, ভেনেশিং’ উপন্যাসে। ১৯৩০-এর দশকের বার্লিনে হান্না নামের এক তরুণ ইহুদি নারী শিল্পীর জীবনকে কেন্দ্র করে এই বইটি রচিত হয়েছে। লেখক বিরেল মূলত শিল্প-ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতেন। তিনি ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকের হারিয়ে যাওয়া ইহুদি নারী শিল্পীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের অনেকেরই শিল্পকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাঁদের সম্পর্কে খুব কম তথ্যই অবশিষ্ট রয়েছে। সেই হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকেই তিনি তাঁর উপন্যাসের উপজীব্য করেছেন।

শিল্পকে কেন্দ্র করে সাহিত্য রচনার এই চমৎকার প্রবণতা অবশ্য একেবারেই নতুন কিছু নয়। ঊনবিংশ শতকের বিখ্যাত লেখক বালজাক, জোলা এবং প্রুস্তও চিত্রকলা থেকে লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। এছাড়া ট্রেসি শেভালিয়েরের ‘গার্ল উইথ এ পার্ল ইয়াররিং’ এবং ডোনা টার্টের ‘দ্য গোল্ডফিনচ’ হলো নির্দিষ্ট কোনো শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে লেখা বিশ্বখ্যাত উপন্যাসের অনন্য উদাহরণ।

বর্তমান সময়ের লেখকেরা চিত্রকলাকে কেবল গল্পের একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে দেখছেন না; যা তাঁদের সৃষ্টির সূচনা ও কাঠামোগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের কাছে একটি ছবি কখনো নতুন চরিত্রের জন্ম দেয়, কখনো ইতিহাসকে নতুন আলোয় দেখার সুযোগ করে দেয়, আবার কখনো লেখার গভীরে নতুন সব প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin