বইপ্রেমী দিবস: জ্ঞানের সন্ধানে বইয়ের পাতায় ডুব দেওয়ার দিন
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

বই মানুষের অভিজ্ঞতার এক বিশাল সংগ্রহশালা এবং জ্ঞানের দলিল। মানব ইতিহাসের পরিক্রমায় জ্ঞানচর্চার মাধ্যমেই মানুষ তার স্বকীয়তা অর্জন করেছে। বই পড়ার সাথে মানুষের জ্ঞানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য; প্রতিটি বই যেন একেকটি জীবন্ত কণ্ঠস্বর যা পাঠকের জ্ঞানের দ্যুতি বাড়িয়ে দেয়। এই অগাধ প্রেম আর গভীর অনুরাগকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস’ (Book Lovers Day)।
এটি মূলত একটি অনানুষ্ঠানিক উৎসব, যার পেছনে কোনো সরকারি ঘোষণা বা আন্তর্জাতিক সংস্থার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। তবুও বইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। আধুনিক ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারের ভিড়ে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস যখন কিছুটা কমে আসছে, তখন এই বিশেষ দিনটির গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ এখন স্ক্রিন থেকে দূরে সরে এসে নতুন ও পুরোনো বইয়ের পাতায় নিজেকে ডুবিয়ে দিতে এই দিনটিকে বেছে নেয়।
দিবসটির মূল লক্ষ্য ও তাৎপর্য হলো সমাজের প্রতিটি স্তরে বই পড়ার মানসিকতা গড়ে তোলা, স্থানীয় বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরিগুলোর সান্নিধ্যে যাওয়ার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা এবং কর্মব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ দূর করতে সাহিত্যের কাল্পনিক বা বাস্তব জগতে সময় কাটানো। অনেকেই এই দিবসটি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন, তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে ইউনেস্কো ঘোষিত ‘বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস’ প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল পালিত হয়, যা ৯ আগস্টের এই অনানুষ্ঠানিক দিবসটি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এই দিবসটি উদযাপনের সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বা এর সূচনাকারী সম্পর্কে কোনো ঐতিহাসিক দালিলিক প্রমাণ নেই। তবে বিশ্বজুড়ে পাঠকদের ধারণা, সাহিত্য ও পড়ার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই কোনো একক ব্যক্তি বা সাহিত্যপ্রেমী গোষ্ঠী এর প্রচলন করেছিলেন। দিবসটি পালন করার জন্য শান্ত পরিবেশে প্রিয় কোনো বই নিয়ে সময় কাটানো, বন্ধু বা স্বজনদের সাথে ছোট পরিসরে 'বই বিনিময়' (Book Swap) উৎসব আয়োজন করা অথবা স্থানীয় কোনো লাইব্রেরি বা ঐতিহ্যবাহী বইয়ের দোকানে নতুন লেখকের বইয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানো যেতে পারে।





























