ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের উত্তর প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫৬ হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হেনস্তা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা অগ্রহণযোগ্য, মন্তব্য রাশিয়ার ভালো কিংবা মন্দ, সরকারের পাঁচ বছরের ‘চুক্তি’ মেনেই ধৈর্য ধরার পরামর্শ প্রতিবাদ ও ‘আগের ১৪ বছর’ বিতর্ক: একটি সামাজিক বিশ্লেষণ রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় ওসির অবহেলার প্রমাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৮ লাখ টাকার সিরিঞ্জসহ নারী যাত্রী আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন আইনমন্ত্রী মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা

ভারতে তরুণদের ‘ককরোচ আন্দোলন’ সামলাতে হিমশিম মোদি সরকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা তরুণদের আন্দোলনের দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আন্দোলনকে তাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে।

রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনভিত্তিক 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপির নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ক্ষোভ থেকে। তবে খুব দ্রুতই এটি বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং মোদি সরকারের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনের মুখে গত ২৫ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীর জন্য এক বিরল পশ্চাদপসরণ। যদিও আন্দোলনকারীরা তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় বর্তমানে কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে, তবুও আন্তর্জাতিক সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণে এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

তরুণদের মন জয়ের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি কঠোর করা এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, মোদি প্রথমবারের মতো তরুণদের পছন্দের প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষের ডিজিটাল নজরদারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অনেক নারী বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, আন্দোলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি ও অশালীন বার্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়া নয়াদিল্লিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে তরুণদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন নতুন উপায় খুঁজতে হয়েছিল। অ্যাকসেস নাউয়ের তথ্যমতে, ইন্টারনেট বন্ধের দিক থেকে ভারত গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং এটি ছিল অর্থনৈতিক সুযোগ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। অনেক তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লড়াইয়ে নেমেছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তারা তরুণদের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা শুনতে দেশব্যাপী জনমত শোনার কর্মসূচি আয়োজন করবেন। পাশাপাশি পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের প্রতিও সমর্থন অব্যাহত রাখবে সংগঠনটি। পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এখনো বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। অভিজিৎ দীপকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা ও নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারে একটি গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিক্ষোভ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোকে তরুণ ভোটারদের চাহিদা ও দাবির দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে পারে। ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ভোটারগোষ্ঠী। তবে বিক্ষোভের সময় তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও রাজনৈতিক শক্তিকে ভোটে রূপান্তর করা ভিন্ন বিষয়। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষই তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও হতাশাকে নিজেদের নির্বাচনি স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৩আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতে তরুণদের ‘ককরোচ আন্দোলন’ সামলাতে হিমশিম মোদি সরকার

আপডেট সময় : ০১:০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা তরুণদের আন্দোলনের দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই আন্দোলনকে তাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে।

রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইনভিত্তিক 'ককরোচ জনতা পার্টি' বা সিজেপির নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সরকারি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ক্ষোভ থেকে। তবে খুব দ্রুতই এটি বেকারত্ব, কর্মসংস্থানের অভাব এবং মোদি সরকারের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী আচরণের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনের মুখে গত ২৫ জুলাই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রীর জন্য এক বিরল পশ্চাদপসরণ। যদিও আন্দোলনকারীরা তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় বর্তমানে কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে, তবুও আন্তর্জাতিক সংস্থা এএফপির বিশ্লেষণে এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

তরুণদের মন জয়ের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের শাস্তি কঠোর করা এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, মোদি প্রথমবারের মতো তরুণদের পছন্দের প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় হয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।

বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষের ডিজিটাল নজরদারি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এসেছে। অনেক নারী বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, আন্দোলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি ও অশালীন বার্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়া নয়াদিল্লিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে তরুণদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন নতুন উপায় খুঁজতে হয়েছিল। অ্যাকসেস নাউয়ের তথ্যমতে, ইন্টারনেট বন্ধের দিক থেকে ভারত গত বছর বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন কেবল প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং এটি ছিল অর্থনৈতিক সুযোগ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার সংকটের বহিঃপ্রকাশ। অনেক তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার লড়াইয়ে নেমেছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তারা তরুণদের উদ্বেগ ও সমস্যার কথা শুনতে দেশব্যাপী জনমত শোনার কর্মসূচি আয়োজন করবেন। পাশাপাশি পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের প্রতিও সমর্থন অব্যাহত রাখবে সংগঠনটি। পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এখনো বিক্ষোভ চলমান রয়েছে। অভিজিৎ দীপকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা ও নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধারে একটি গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বিক্ষোভ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোকে তরুণ ভোটারদের চাহিদা ও দাবির দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে পারে। ভারতের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ভোটারগোষ্ঠী। তবে বিক্ষোভের সময় তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও রাজনৈতিক শক্তিকে ভোটে রূপান্তর করা ভিন্ন বিষয়। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন এবং বিরোধী দল উভয় পক্ষই তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও হতাশাকে নিজেদের নির্বাচনি স্বার্থে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৩আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৩৬

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh