সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাড়ছে সামরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা
- আপডেট সময় : ১২:২৩:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। মক্কায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এই ত্রিপক্ষীয় সামরিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর মতো কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ বাধ্যতামূলকভাবে যৌথ সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে কি না, তা চুক্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করতে পারে। গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুলআজিজ সাগের রয়টার্সকে জানান, এই কাঠামো তিন দেশের সম্মিলিত কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করে।
প্রস্তাবিত এই জোটে প্রতিটি দেশের আলাদা আলাদা শক্তিশালী দিক রয়েছে। পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার, তুরস্কের আছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ও ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী এবং সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল আর্থিক সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনী। এর আগে গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছিল, যা বর্তমান সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্তমানে পূর্ব সৌদি আরবে হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা, যুদ্ধবিমান ও ড্রোন মোতায়েন রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা সমীকরণে এই চুক্তিটি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভরশীলতার বিকল্প হিসেবে দেশগুলো নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে। পাকিস্তান মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজছে, অন্যদিকে তুরস্ক কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি মার্কিন সমর্থনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তবে এই চুক্তিকে এখনই ‘গেমচেঞ্জার’ মানতে নারাজ অনেক বিশ্লেষক। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি এটিকে ‘কাগজের চুক্তি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েন ও তুরস্কের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে নয়াদিল্লিও পুরো বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
এরই মধ্যে পূর্ব সৌদি আরবে কয়েক হাজার পাকিস্তানি সেনা, ১৬টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং চীনের তৈরি একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী তুরস্কের তৈরি ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রব্যবস্থাও ব্যবহার করে।



























