ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অসুস্থ যুবদল নেতা অলির হার্ট সার্জারির দায়িত্ব নিলেন সজিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ, পদত্যাগের দাবি নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল সোহেলী হত্যা চেষ্টা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক এমপি ছানোয়ার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা বিতরণে নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ ১০০ বছর বয়সে মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ দুদকের প্রেস ব্রিফিং ও মিডিয়া ট্রায়াল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী বৈঠক ৫ কোটির কাজে ২ কোটি ঘুষ দাবি পিডিবি প্রকৌশলীর গাজীপুরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা ও শিশুকন্যা নিহত

কুশিয়ারার তলদেশে জমছে বিষাক্ত ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাণ কুশিয়ারা নদীর তলদেশ এখন বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির এই তথ্য উঠে এসেছে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। নদীটির ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত পলি সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ২ হাজার ৮০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত। নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতা পর্যন্ত এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উচ্চমাত্রার বিষক্রিয়াও শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মাছসহ জলজ প্রাণীরা এই মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করায় বিষাক্ত ধাতুগুলো মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পলিতে দূষণের মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ক্লাস ভি পর্যায়ে রয়েছে। বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকা ও বিভিন্ন খাল-নালা দিয়ে অবাধে বর্জ্য ও নর্দমার সংযোগ নদীর স্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের আধিক্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে নদীর পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা বৈরাগীবাজার এলাকার মৎস্যজীবী জাবেদ জানান, নদীতে এখন আগের মতো মাছ নেই এবং পানির মানও অত্যন্ত খারাপ। বিয়ানীবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান জানান, স্রোতের বেগ ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্জ্য অপসারণ ও মানুষের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।

১০-২০ সেন্টিমিটার গভীরতার পলিতে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

নমুনায় নদীর তলদেশের ১০-৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

কুশিয়ারার তলদেশে জমছে বিষাক্ত ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিক

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাণ কুশিয়ারা নদীর তলদেশ এখন বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির এই তথ্য উঠে এসেছে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। নদীটির ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত পলি সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ২ হাজার ৮০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যার সর্বোচ্চ সংখ্যা ৪ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত। নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতা পর্যন্ত এই প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উচ্চমাত্রার বিষক্রিয়াও শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মাছসহ জলজ প্রাণীরা এই মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করায় বিষাক্ত ধাতুগুলো মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।

পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর পলিতে দূষণের মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ক্লাস ভি পর্যায়ে রয়েছে। বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকা ও বিভিন্ন খাল-নালা দিয়ে অবাধে বর্জ্য ও নর্দমার সংযোগ নদীর স্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের আধিক্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে নদীর পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা বৈরাগীবাজার এলাকার মৎস্যজীবী জাবেদ জানান, নদীতে এখন আগের মতো মাছ নেই এবং পানির মানও অত্যন্ত খারাপ। বিয়ানীবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান জানান, স্রোতের বেগ ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্জ্য অপসারণ ও মানুষের সচেতনতা এখন সময়ের দাবি।

১০-২০ সেন্টিমিটার গভীরতার পলিতে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

নমুনায় নদীর তলদেশের ১০-৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh