গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটে অচল নরসিংদীর শিল্পকারখানা, দৈনিক কোটি টাকার ক্ষতি
- আপডেট সময় : ০৯:২৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় টেক্সটাইল, ডাইং মিল, সিরামিকসহ বিভিন্ন মাঝারি ও ভারী শিল্পকারখানা এবং সিএনজি স্টেশনগুলোর উৎপাদন ও কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার কারণে এই দীর্ঘমেয়াদী ও তীব্র জ্বালানি ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
দেশের অন্যতম প্রধান এই শিল্পাঞ্চলটি সারা দেশের কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান দিয়ে থাকে। জেলায় টেক্সটাইল, ডাইং ও স্পিনিং মিলের সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, গ্যাস-সংকটের কারণে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা দুর্যোগের ধকল কাটিয়ে ব্যবসায়ীরা যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে জ্বালানির এই নজিরবিহীন শূন্যতা তাদের চরম হতাশায় ফেলেছে। স্থানীয় শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্যমতে, শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের প্রাপ্তি কমে যাওয়া এবং বিদ্যুতের লোডশেডিং অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
উৎপাদনের চাকা বন্ধ থাকায় কারখানা মালিকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক উদ্যোক্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, কারখানায় উৎপাদন না থাকায় বিক্রিও বন্ধ। এই অবস্থায় শ্রমিক-কর্মচারীদের মাসিক বেতন পরিশোধ করাও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভূঁইয়া টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্যালন্ডার মিলসের পরিচালক আনিসুর রহমান ভূঁইয়া জানান, গ্যাসের অভাবে গত দুই সপ্তাহ ধরে তার কারখানার উৎপাদন প্রায় বন্ধ। কারখানাটি সচল রাখতে ন্যূনতম ১০ পিএসআই চাপের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক থেকে দুই পিএসআই। রাতে সিলিন্ডার গ্যাসের সাহায্যে কোনোমতে এক-দুই ঘণ্টা কারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশন নরসিংদীর চেয়ারম্যান ও মাধবদী ডাইং ফিনিশিং মিলস লিমিটেডের মালিক নিজাম উদ্দিন ভূইয়া লিটন (সিআইপি) জানান, বাংলাদেশের মোট কাপড়ের চাহিদার ৭৫ ভাগ পূরণ হয় নরসিংদীতে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় বর্তমানে নরসিংদী ও মাধবদী এলাকার প্রায় ৮০ ভাগ মিল বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)-এর মুখপাত্র ও নরসিংদীর আবেদ টেক্সটাইল প্রসেসিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, জ্বালানির এই শূন্যতা অব্যাহত থাকলে জনরোষ তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, আগে জ্বালানির স্বল্পতা থাকলেও এখন তা শূন্যতায় রূপ নিয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের চরম হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছে।























