গ্যাস সংকটে লোকসানের মুখে সিএনজি স্টেশন, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা
- আপডেট সময় : ০৭:১৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা। সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাস বিক্রি অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ ও পানির বিল এবং স্টেশন ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে মালিকদের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে। কাজ কমে যাওয়ায় চাকরি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ফিলিং স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
স্টেশন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে জর্জরিত দেশের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। সরকার নির্ধারিত ১৮ শতাংশ লভ্যাংশের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশই চলে যায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে। অবশিষ্ট মাত্র ৪ শতাংশ দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ স্টেশনের অন্যান্য যাবতীয় ব্যয় মেটাতে হয়। এর ওপর নতুন করে যোগ হওয়া গ্যাস সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সোমবার ও মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
তেজগাঁওয়ের ওয়াল ইন ওয়ান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কাজী রাজ জানান, গ্যাসের চাপ না থাকায় তাদের বিক্রি ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। অথচ প্রতি মাসে ভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিল এবং স্টাফদের বেতন বাবদ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এই ব্যয়ের সিংহভাগই এখন মালিকদের নিজস্ব তহবিল থেকে দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে স্টেশন চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং একপর্যায়ে তা বন্ধ করে দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. শাহ আলম জানান, গ্যাস বিক্রির আয় দিয়েই সাধারণত স্টাফদের বেতন ও স্টেশনের খরচ চালানো হয়। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। ফলে কর্মীদের বসিয়ে রেখেই বেতন দিতে হচ্ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে কর্মী ছাঁটাই ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।
বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জেনারেল ম্যানেজার মাহেশ রায় জানান, আগের চেয়ে অর্ধেকেরও বেশি বিক্রি কমে গেছে। আগে যে গাড়িতে ৬০০ টাকার গ্যাস দেওয়া যেত, এখন চাপ কম থাকায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকার বেশি দেওয়া যাচ্ছে না। তাদের স্টেশনে ২৭ জন স্টাফের অধিকাংশকেই এখন অলস সময় পার করতে হচ্ছে। বিক্রি আরও কমলে কর্মচারী ছাঁটাই করতে বাধ্য হবেন মালিক।
এনএস সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টারের ক্যাশিয়ার আক্তারুজ্জামান জানান, বর্তমানে গ্যাসের যে চাপ, তাতে মাত্র দুই থেকে তিনজন নজেলম্যানই যথেষ্ট। অথচ তাদের এখানে আটজন নজেলম্যান রয়েছেন। দ্রুত সমাধান না হলে সব স্টেশনের কর্মীরাই কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
ডেমরার রাসেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনের মহাব্যবস্থাপক মো. হেলাল জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তাদের চারটি হোস পাইপের মধ্যে মাত্র একটি সচল রাখা যাচ্ছে। বাকি তিনটি লাইনের কর্মীরা অলস বসে থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
এদিকে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর স্টেশনগুলোর সামনে গ্যাস নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। সিএনজি অটোরিকশাচালক ওবায়দুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জানি না কবে এই দুর্ভোগ শেষ হবে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এভাবে সময় নষ্ট ও ভোগান্তি আর সহ্য করা যাচ্ছে না।" গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে তারা আশা করছেন সরকার দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবে।





























